এম,জিয়াবুল হক : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে জীবিকা হারানো চকরিয়া পৌরসভার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগনের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি আলহাজ জাফর আলমের ভাতিজা চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর আলহাজ জিয়াবুল হক। ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত তহবিলের অর্থায়নে তিনি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি জনপদে অন্তত ১০হাজার পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। কয়েকটি এলাকায় নিজে উপস্থিত থেকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করলেও বেশিরভাগ এলাকায় তিনি স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি এবং কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন।
বর্তমানে করোনার কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দিন দিন বাড়ছে। এই অবস্থায় একটি পৌরসভা এবং ১৮টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সহায়তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
এদিকে চকরিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ১০০০ পরিবার করে এবং নিজের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০০০ পরিবারসহ সর্বমোট ১০ হাজার পরিবারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ জিয়াবুল হক। নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হলেও তিনি পুরো পৌরসভায় জীবিকা হারানো মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তা দিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন।
তার এই খাদ্যসহায়তা বিতরণও করা হয়েছে ব্যতিক্রমী উপায়ে। কোনো জনসমাগম ছাড়াই একেবারে নীরবে কর্মীর মাধ্যমে পৌরসভার প্রতিটি পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে খাদ্যসহায়তা হস্তান্তরের সময় কাউন্সিলর জিয়াবুল নিজে একটি ছবিও ধারণ করেননি। সর্বশেষ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রপাল মন্দিরের মাধ্যমে ওই এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয় জিয়াবুলের খাদ্যসহায়তা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর জিয়াবুল হকের বাবা আলহাজ আবুল কালাম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক সুনীপ দাশ সৌরভ, স্থানীয় সমীর দে সহ ক্ষেত্রপাল মন্দির কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
চকরিয়া সংবাদপত্র হকার সমিতির সভাপতি মো. মনির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ কাঞ্চন বলেন, ‘করোনার কারণে ২৬ মার্চের পর থেকে পত্রিকা না আসায় আমাদের রুটি-রুজির পথও রুদ্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় চরম খাদ্যসংকটে থাকার খবর পেয়ে কাউন্সিলর জিয়াবুল হক ২০ জন হকারের পরিবারের পাশে প্রথমবারের মতো এগিয়ে আসেন।’
চকরিয়া পৌরসভার সচেতন অনেক ব্যক্তি জানান, চকরিয়ায় এমন অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যারা চাইলে শ্রমজীবী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারতেন। করোনা পরিস্থিতিতে তারাও রয়েছেন একেবারে নিশ্চুপ। এই অবস্থায় কাউন্সিলর জিয়াবুল পৌরসভার ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিয়ে মানবিক কাজ করেছেন।#
