হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে বিয়ের বছর না পেরুতেই নব দম্পতির পারিবারিক কলহের জেরধরে অভিমানে বাপের বাড়িতে থাকা স্ত্রীকে নিতে এসে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে শ্বাশুড় বাড়ির পক্ষের লোকজনের হামলায় আহত স্বামী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।
জানা যায়, ৯এপ্রিল সকাল ৯টারদিকে উপজেলার হ্নীলা উত্তর আলীখালীর মৃত আমিন শরীফের পুত্র আক্তার হোছন (২৪) তার শ্বাশুড় হায়দর আলীর বাড়িতে অভিমানে বন্দি থাকা স্ত্রী আম্মুনি (১৯) কে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে আসে। তখন স্ত্রী বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কথা তুলে না যাওয়ার কথা বলে। তখন ক্ষুদ্ধ স্বামী স্ত্রীকে অবশ্যই যেতে হবে বলার পর রাজি না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে হাতে থাকা মহিষ চরানোর লাঠি দিয়ে হালকা মারধর করে এবং কোন কে আছে আমার সামনে আসতে বলে হুংকার দেয়। তখন বাড়িতে থাকা খুইল্যা ভাই আবছার উদ্দিন বের হয়ে এসে বোন জামাইয়ের থাকা থাকা লাঠি নিয়ে মাথায় আঘাত করলে আক্তার হোছন রক্তাক্ত ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
তখন শ্বাশুড়ি হাজেরা এবং আক্তার হোছন পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হ্নীলায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান হতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান হতে চমেকে রেফার করা হলেও যাত্রার পূর্বেই সে মৃত্যু বরণ করে বলে আক্তার হোছনের স্বজনেরা নিশ্চিত করেন। আক্তার হোছনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্বাশুড় বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন,শ্বাশুড় বাড়িতে বউ আনতে গিয়ে মারামারীর ঘটনায় রক্তাক্ত ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) রাকিব আহমেদ জানান,হাসপাতালে নিহত আক্তার হোছনের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বছর খানেক পূর্বে এই দম্পতির বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে প্রায় সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে স্বামী প্রায় সময় মারধর করত। গত মাস খানেক এই ধরনের ঝগড়ায় স্ত্রীর হাত কাটা গেলে রাগ-অভিমানে স্ত্রী ৪ মাসের অন্ত:সত্তাবস্থায় বাপের বাড়ি চলে আসে। মেয়ের বাপ জামাইয়ের এই ধরনের আচরণ বন্ধ করার লক্ষ্যে ১৫/২০দিন বাড়িতে রাখে। আজ সকালে স্ত্রীকে ফেরত নিতে এসে ঝগড়া-ঝাটির জেরধরে স্বামী আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। ###
