বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে “স্বপ্নের সোনার বাংলা” বিনির্মাণে চাটুকার তৈলবাজদের পরিহার করি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

ইদানিং ফেইসবুকের কল্যাণে তৈলবাজ একটা গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিনিয়ত যখন যাকে প্রয়োজন তখন তাকে নিয়ে ফেইসবুকে তৈলমর্দন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সরকারী বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর পদ-গতিতে থাকা লোকজনই তাদের টার্গেট। এটা শুধু নির্দিষ্ট কোন এলাকায় বা নির্দিষ্ট কোন পেশার লোক করে যাচ্ছে তা নয়। সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ফেইসবুক ব্যবহারকারী এক শ্রেনীর মানুষের মাঝে এটা এক ধরনের স্বার্থসিদ্ধির কৌশলে পরিণত হয়েছে। যাদেরকে এরা তেল মারছে তাদের বুঝা উচিত আপনাদের ভালবেসে তারা এই তৈলবাজি করছেন না। আপনার চেয়ারে আগে যিনি ছিলেন তাকে নিয়েও এরা তৈলবাজি করতেন। আবার আপনার পরে যিনি আসবেন তাকে নিয়েও করবেন। তারা শুধু আপনি একজনকে নিয়ে তৈলবাজি করছেন তাও নয়। তাদের টাইম লাইনে গিয়ে দেখুন আপনার মত নামীদামি চেয়ারে, ক্ষমতায় যারা আছেন প্রত্যেককেই তারা একইভাবে তৈলমর্দন করে যাচ্ছে স্বার্থসিদ্ধির জন্য। যা অনেকটা বেশ্যাবৃত্তির মতো। এভাবে তারা হয়তো আখের গুছিয়ে নিয়েছে অথবা নিচ্ছে।

এই তৈলবাজি যে শুধু ফেইসবুকে সীমাবদ্ধ থাকছে তা নয়। ফেইসবুকের পাশাপাশি বাস্তবতায়ও তারা সেটা প্রয়োগ করে লক্ষ্য হাসিল করছে অথবা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দপ্তরে গেলে এ ধরনের চিত্র সচরাচর চোখে পড়ে। তৈলবাজি-চাটুকারিতা যে আগে ছিল না এমন নয়। কিন্তু বর্তমানে এই তৈলবাজ শ্রেনী বেপরোয়া। তৈলবাজিতে তারা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে মনে হয়।

এতে একধরনের সামাজিক বৈষম্যও সৃষ্টি হচ্ছে। যারা এটা করছেন এবং প্রশ্রয় দিচ্ছেন তারা উভয়ে অন্যায় বা দুর্নীতির সমান অপরাধী নয় কি ?

এর ফলে প্রকৃত যোগ্য-সৎ মানুষ গুলো বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আর যাদের যে যোগ্যতা নেই শুধু মাত্র তৈলবাজি করে তারা সে জায়গায় বসে যাচ্ছে বা যা পাওয়ার কথা নয় তা পেয়ে যাচ্ছে।

আবার এমনও হচ্ছে কোন একটি পেশার অথবা গোষ্ঠীর দুয়েক জনের তৈলবাজির ফলে সেই কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই পেশার বাকি সবাইকে ভুল বুঝছেন অথবা ক্ষোভ পুষে রাখছেন তারা তৈলবাজি করছেন না বলে। অথচ এমন নয় যে বাকি সবাই তাকে অপছন্দ করছেন।

শুধু তাই নই সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অথবা কোন অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিপক্ষে ফেইসবুকে কোন স্ট্যাটাস দিলে সেই কর্মকর্তা এমন ক্ষেপে যান যে পরবর্তীতে ফোনই রিসিভ করছেন না। এসব কিছু হচ্ছে শুধুমাত্র গুটিকয়েক জনের তৈলবাজির কারণে।

তাই সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে চাটুকার তৈলবাজদের পরিহার করি। কেননা আমরা যতদুর জানি বঙ্গবন্ধু নিজেও চাটুকার-তৈলবাজ পছন্দ করতেন না।

কাজেই এই ধরনের তৈলবাজিতে খুশি না হয়ে যদি প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যখনই এরা তৈলবাজি করবেন বুঝে নেবেন কোন একটা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন।

আসুন সবাই মিলে সুস্থ্য ধারার সমাজ প্রতিষ্ঠা করি।

নোট : কেউ যাতে আমার এই লিখা ব্যক্তিগত ভাবে না নেন সেই অনুরোধ রইল।

নুরুল করিম রাসেল
সম্পাদক, টেকনাফ টুডে ডটকম
সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, টেকনাফ উপজেলা