টেকনাফ টুডে ডেস্ক : চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের সমীকরণটা এখন খুবই সরল। আজ জিম্বাবুয়েকে হারালেই ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ, সঙ্গে সিরিজের অপর দল আফগানিস্তানও। কিন্তু খাদের কিনারে থাকা জিম্বাবুয়ে যদি ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয়? আফগানদের তাতে খুব বেশি মাথাব্যাথা থাকবে না। তবে বেশ জটিল হয়ে যাবে টাইগারদের ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ। এমতাবস্থায় জয়ের চোখ রাখছে বাংলাদেশ। সেই জয়টাকে মুঠোয় নিতে সাকিব আল হাসানের দল আক্রমণাত্মক কৌশলেই এগোতে চাইছে।
আফগানিস্তানের কাছে আগের ম্যাচে হারটা বড়সড় ধাক্কাই দিয়েছে টাইগারদের মনোবলে। বেশ চাপের মুখেও আছে স্বাগতিকরা। সম্প্রতি যে একেবারেই ভালো যাচ্ছে না তাদের। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট জয়ের পর হঠাৎই যেন ছন্দটা হারিয়ে ফেলেছে টাইগাররা। বিশ্বকাপে অন্তত সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্যপূরণ হয়নি। ১০ দলের আসরে বাংলাদেশ হয়েছে অষ্টম। এরপর শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ধবলধোলাই হয়ে ফেরা দল আফগানিস্তানের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টে। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিল তারা, কিন্তু পরের মাঠে আফগানদের কাছে আরেকটি হারে সেটাও উধাও।
সবমিলে দুঃসময়ের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ। সেটা দূর করার লক্ষ্য নিয়েই সোমবার চট্টগ্রামে পা ফেলেছে সাকিবের দল। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাম ঝড়িয়েছে অনুশীলনে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সেই অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। এই অলরাউন্ডার জানালেন, ছন্দে ফেরার জন্য আক্রমণাত্মক ক্রিকেটেরই ছক কষছে দল, ‘আমাদের একটা মোমেন্টাম জরুরি। একটা ম্যাচ জেতা আসলে দরকার। এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচ জিতেছি। আরেকটা হেরে গেছি। তাই পরের ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচ জেতার জন্য আমরা শতভাগ আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেলব।’
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩০ রানের হার না নামা ইনিংস খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। আফিফ হোসেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করিয়েছিলেন তিনিই। ওই ম্যাচে ৬০ রানেই ৬ উইকেট খুইয়ে ফেলেছিল টাইগাররা। প্রবল চাপ সামলে দুর্দান্ত লড়াই করেছেন মোসাদ্দেক। তবে তিনি পার্শ্বনায়ক, দুর্দান্ত এক হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন আফিফ। ম্যাচে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল টপঅর্ডার। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ছন্দে ফিরতে পারেনি তারা। মোসাদ্দেকের বিশ্বাস, দ্রুতই সমস্যাটা কেটে যাবে। শুরুর ব্যাটসম্যানরা ছন্দে ফিরবেন, ছন্দে ফিরবে দলও।
অধিনায়ক সাকিবের আস্থাভাজন মোসাদ্দেক বললেন, ‘অবশ্যই প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি। আমরা পরের ম্যাচটাও জেতার জন্যই খেলব।’ ব্যাটসম্যানদের প্রসঙ্গে বললেন, ‘যখন রান মিলবে না তখন ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস দুর্বল হয়ে হয়ে পড়ে এটাই স্বাভাবিক। আসলে আমরা আফগানিস্তানের কাছে ম্যাচটা হেরেছি হয়তো ২০ রানের (২৫ রান) মতো ব্যবধানে। আত্মবিশ্বাস নিচু থাকার পরও যদি আমরা মাত্র ২০ রানে হারি, তাহলে আমরা যদি আরেকটু পরিকল্পনামাফিক ব্যাটিং বা আরেকটু ক্যালকুলেশন করে খেলতে পারি তাহলে সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো হবে।’
দলের সম্প্রতিক ব্যাটিং সংকটকে খুব বড় কোনো সমস্যা হিসেবেও দেখছেন না মোসাদ্দেক। জানালেন, ‘আমাদের এক্সিকিউশন সবই মোটামুটি ঠিক আছে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো একটু ঘাটতি রয়ে গেছে। এ কারণে ছোট ছোট গ্যাপ তৈরি হচ্ছে, অল্প রানে আমরা ম্যাচ হেরেছি। এই ফাঁকফোকরগুলো যত কমিয়ে আনা যায় ততই আমাদের জন্য ভালো।’
অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন সাকিব। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ কাঁধে নেতৃত্বভার তুলে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মোসাদ্দেকের নামটাও আসছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাননি তিনি, ‘আসলে আমি এ ব্যাপারে জানি না কিছুই। যখন এ রকম কথা হবে, তখন আমার সঙ্গে (কর্তাব্যক্তিরা) কথা বলবেন। সেটা আলোচনা সাপেক্ষে, হয়তো আমি…।’
