কীটনাশক প্রয়োগের চেয়ে উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব দিন: কলকাতার ডেপুটি মেয়র

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে : মেয়র আতিকুল ইসলাম
| ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশক প্রয়োগের চেয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিলেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। সোমবার বিকাল ৩টায় গুলশানে নগরভবনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা পৌরসভা থেকে তিনি এ পরামর্শ দেন।

অতীন ঘোষ বলেন, কলকাতা পৌরসংস্থা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার- এই দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। ২০০৯ সাল থেকে কলকাতা পৌরসভা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরবিশিষ্ট মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ড, ব্যুরো (জোন) ও হেড কোয়ার্টার পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কলকাতায় সারা বছর ধরেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘মশারে করো উৎসে বিনাশ’- এই স্লোগান নিয়ে বাসাবাড়ি কিংবা উন্মুক্ত জলাশয় যেখানেই এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায় তা ধ্বংস করা হয়। ঢাকার কোন কোন এলাকা ডেঙ্গুপ্রবণ- তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন অতীন ঘোষ। কলকাতার ডেপুটি মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনভিত্তিক কৌশলী হতে হবে। কলকাতা পৌরসংস্থা ৯ বছর ধরে অবকাঠামোভিত্তিক লড়াই চালিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।

একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিনের সাহায্যে ধোঁয়া প্রয়োগ কার্যকর হলেও এডিস মশা দমনে এর কার্যকারিতা কম। এডিস মশা দমনে উৎসে নির্মূল করা এবং জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

আর ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন পরিবর্ধন করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের এ কনফারেন্স থেকে আমাদের অনেক ‘নলেজ শেয়ারিং’ হল। কলকাতার অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারব।

কলকাতার সঙ্গে এ ধরনের ‘নলেজ শেয়ারিং’ এটি প্রথম হলেও শেষ নয়। ভবিষ্যতে দুই শহরের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

ভিডিও কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমান, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার, কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, কলকাতা পৌরসংস্থার চিফ ভেক্টর কন্ট্রোল অফিসার ডা. দেবাশীষ বিশ্বাস, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম, উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্যবিষয়ক মুখ্য পরামর্শক ডা. তপন মুখার্জি প্রমুখ।