বার্তা পরিবেশক :: গত ৪জুলাই দৈনিক আলোকিত উখিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত “ইয়াবায় একমাত্র সবকিছু বদলে গেলো হোয়াইক্যংয়ের শামসুর;এখন আন্ডার গ্রাউন্ডে” শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। যা এক ব্যক্তির লম্পট চারিত্রিক কারণে স্ত্রীর নিকট হতে ডিভোর্স প্রাপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছাড়া কিছুই না। আমি কারো সাথে কোন ধরনের মাদকসহ নিষিদ্ধ কোন ধরনের পণ্যের বানিজ্য করিনি। আমি যদি প্রকৃত অপরাধী হয়ে থাকতাম তাহলে সাধারণ মানুষের মতো এলাকায় বসবাস করতে পারতাম না। কারা প্রকৃত অপরাধী তা প্রশাসনের খাতায় নাম রয়েছে। তবে আমার বিরুদ্ধে এত বড় জঘন্য অপপ্রচারের কারণ সমুহ সম্মানিত পাঠকদের জন্য উত্থাপন করা হল।
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মনির ঘোনার মৃত নাজির হোছনের পুত্র কোরবান আলী (৪৪) এবং আমি মৃত আলী আকবরের পুত্র শামসুদ্দিন (৪৫) এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘণিষ্ঠ বন্ধুত্বের সুত্রধরে আমাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে আসা-যাওয়া চলে আসছে। গত ২০১২সালে টেকনাফের এক ধনাঢ্য ব্যক্তির সাথে কোরবান আলীর স্ত্রী হাছিনা বেগম (৩৫) কে কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে যায়। কোরবান আলী একটু কাজে যাওয়ার কথা বলে হোয়াইক্যংয়ে বাড়ি চলে আসে। কক্সবাজার সদর থানার একদল পুলিশ হোটেল হতে কোরবানের স্ত্রী ও টেকনাফের জনৈক বন্ধুকে আটক করে। পরে মধ্যস্থতা করে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। স্ত্রী বাড়িতে ফিরে এসে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। পরে আমি শামসুদ্দিন গিয়ে মধ্যস্থতা করে তাদের সংসারে ২ ছেলে, ১ মেয়ের ভবিষ্যত কামনা করে কোন রকমেই শান্তি ফিরিয়ে আনি। তৎকালীন তার ছেলে ও মেয়ের বিয়ে হয়।
গত ২০১৭ সালে কোরবান আলী-হাছিনা দম্পতি আমার বাড়িতে বেড়াতে যায়। গভীর রাত হওয়ায় স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে আমার বাড়িতে রেখে কোরবান আলী বাড়ি ফিরে যায়। ঐ রাতেই সে বাড়িতে নারী কেলেংকারীতে জড়িত হলে সকালে সালিশ হয়। কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী আরো এক মহিলার সাথে অনৈতিক কাজে ধরা পড়ার পর তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ চলে আসছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ২৩মার্চ উপজেলা নির্বাচনের একদিন আগে কোরবান আলী স্বপরিবারে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে এবং সাবরাংয়ের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী যুবকের সাথে আমার একমাত্র মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ভিডিও কলে কথা বলতে বলে। উক্ত ছেলে সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে কথা বলতে নিষেধ করায় কোরবান আলী আমার সাথে ঝগড়া করে। আমরা উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে সে তার স্ত্রী হাছিনাকে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা করার জন্য বলে। স্ত্রী রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও অশালীন ব্যবহার করে চলে যায়। স্বামীর এই ধরনের কার্যকলাপে স্ত্রী হাছিনা বিরক্ত এবং অতিষ্ঠ হয়ে কোরবান আলীকে ডির্ভোস দিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়।
তখন থেকে কোরবান আলী আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দেয়। আমার মনে হয় সেই সুত্রধরে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপতৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে টেকনাফে স্পর্শকাতর মাদক বিরোধী অভিযানের কবলে ফেলে শত্রæতা হাসিলের চেষ্টা চালিয়েছে।
উক্ত সংবাদে উল্লেখিত তথ্যে জানাতে চাই, আমার পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত এক একর সম্পত্তি বিক্রি করে আমার প্যারালাইসিসের চিকিৎসা করেছি। এখন যৌথ পরিবারে বসত-বাড়ির জমি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। উক্ত সংবাদে উল্লেখিত ধরনের আমার কোন সম্পত্তি থাকলে তা জব্দ করে সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উক্ত সংবাদ প্রচারে জড়িতদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
আমি এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আগামীতে এই চক্র কর্তৃক মিথ্যা মামলায় হয়রানিরোধে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, ওসি, ইউএনও, সহকারী পুলিশ সুপার এবং জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়গণের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
প্রতিবাদকারী :
শামসুদ্দিন
পিতা-মৃত আলী আকবর
মনিরঘোনা, হোয়াইক্যং, টেকনাফ।
