সংবাদদাতা : হ্নীলা নাটমোরা পাড়ায় রোহিঙ্গা মৌলভী কর্তৃক নতুন করে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে গ্রামবাসী দু’গ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। এই ব্যাপারে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,হ্নীলা নাটমোরা পাড়ায় একটি বড় জামে মসজিদ ও ফকিরাবাদ মাদ্রাসা থাকার পরও দক্ষিণ-পশ্চিম নাটমোরা পাড়ায় জনবসতির মাঝখানে বশির আহমদের মেয়ে জামাই রোহিঙ্গা মৌলভী আব্দুল মাজেদ স্থানীয় কতিপয় চিহ্নিত মাদক কারবারীদের যোগ-সাজশে মসজিদ স্থাপন করার নামে তাদের অপকর্মের আস্তানা গড়ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার জামাল উদ্দিন।
তিনি আরো জানান, উক্ত মৌলভী ২০বছর পূর্বে মিয়ানমারের মন্ডু হতে এসে এখানে আশ্রয় নেয়। এরপর স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করার সুবাদে জনসাধারণের সার্থে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই সুত্রধরে স্থানীয় বশির আহমদের মেয়ে বিয়ে করার পর দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ চলে যায়। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগ-সাজশ রেখে বিদেশ গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তার খোঁজ করতে গেলে সৌদিয়া, দুবাই, আফগানিস্তান, চীন ও পাকিস্তান সফরে থাকে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর পরই মৌলভী আব্দুল মাজেদ শ্বাশুড় বাড়িতে ফিরে আছে। রোহিঙ্গা কানেকশনে মাঝে-মধ্যে কোথাও হাওয়া হয়ে যায়। আবার ফিরে আসে। ছোট্ট এই গ্রামে একটি জামে মসজিদ ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য ফকিরাবাদি মাদ্রাসা রয়েছে। হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই স্থানীয় কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারীদের ইন্দনে এই মসজিদ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।
এই ব্যাপারে স্থানীয় জামাল মেম্বার বলেন, ক্ষুদ্র এই গ্রামে একটি বড় জামে মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এখানে আপাতত কোন জামে মসজিদ এবং এবতেদায়ীর দরকার নেই। রোহিঙ্গা মৌলভী দিয়ে যারা এই মসজিদ তৈরীর চেষ্টা করছে তারা কি উদ্দেশ্যে করছে বুঝা যাচ্ছেনা। এই ব্যাপারে প্রশাসনের তদারকি দরকার।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল মাজেদ জানান,উক্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্থানীয় হাজী আব্দুর রহমানের স্ত্রীর মিরাজী সম্পত্তির উপর ঈসালে সওয়াবের জন্য নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে একটি মসজিদ তৈরীর ইচ্ছা পোষণ করে। এলাকাবাসীকে বললে সবাই এগিয়ে এসে এই কাজ করার জন্য সম্মতি দেয়। তাতে কোন খারাপ উদ্দেশ্য নেই। এলাকাবাসীর দরকার নাহলে কারো দরকার নেই।
এদিকে এই মসজিদ স্থাপন নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে বলে জানা গেছে। এই উত্তেজনার উপসম না হলে সংঘাতের আশংকা করা হচ্ছে।
