টেকনাফের বাহারছড়ায় মুস্তাফিজ হত্যা মামলার আসামী আবুল বসর ফের বেপরোয়া

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago
ছবি আবুল বশর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টেকনাফ উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের মৃত আক্কাস আলী (প্রকাশ ধলাইয়ার) পূত্র মুস্তাফিজ হত্যা মামলার আসামী আবুল বশর এলাকায় ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার প্রতিনিয়ত হুমকি, ধামকি, জমি দখল ও মামলাবাজির কারণে এলাকার নিরহ জনগণ অতিষ্ট বলে অনেকে অভিযোগ করেন। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে তার উপর নেমে আসে বিভিন্ন হয়রানী ও নির্যাতন। তার এই নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় অনেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায় আবুল বসরের নেতৃত্বে ২০১৬ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে একদল সন্ত্রাসী স্থানীয় শামলাপুর গ্রামের মৃত রশিদ আহমদ (কালুর) পূত্র আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। আর উক্ত নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে আবুল বসরকে দুই নাম্বার আসামী করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ছোট ভাই ও বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী বাদি হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার নাম্বার জি, আর, ১/২০১৬। এদিকে মামলার বাদী নুরুন্নবী জানান আমার বড় ভাইয়ের হত্যা মামলাটি দায়ের পর তা তুলে নিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল বসর প্রথম থেকে আমাকে হুমকি দমকি দিয়ে আসছিল, যা আজ পর্যন্ত বহাল আছে। আর মামলাটি দায়ের করার দুই বছর পার হলেও আবুল বসর নিম্ন আদালত বা উচ্চ আদালত থেকে কোনো জামিন নেয়নি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল তিনি একটি হত্যা মামলার আসামী হয়েও প্রকাশ্যে একটি আইন শৃঙ্গলা বাহিনীর সাথে উঠাবসা এবং এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার বাদী আরো বলেন বড় ভাইয়ের হত্যা মামলাটি দায়ের পর প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পুলিশের বিশেষ শাখা (সিআইডি) উপর। আর আবুল বসর এজাহার ভূক্ত দুই নাম্বার আসামী হয়েও আদালত থেকে তিনি কোনো রকম জামিন না নিয়ে রহস্যজনক কারনে সরাসরি পুলিশের বিশেষ শাখা (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদন(চার্জশিট) থেকে বাদ যায়। যা আমি জানতে পেরে আদালতে উক্ত চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজী প্রেরণ করি। পরে আদালত আমার নারাজী গ্রহন করে মামলাটি পুলিশের আরেকটি বিশেষ শাখা (পিবিআইতে) হস্তান্তর করে। সেখানেও বসরকে অদৃশ্য কারনে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়। সেখানেও আমি উক্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী প্রেরণ করি। আবার আদালত আমার নারাজী গ্রহন করে এখন মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) এর কাছে হস্তান্তর করে যা এখন তদন্তনাধীন। এখন অপেক্ষায় আছি সার্কেল মহোদয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে যেন আবুল বসরকে চার্জশীটে বহাল রাখে, আর আমার ভাইয়ের হত্যার সঠিক বিচারটি যেন পাই। মামলার অন্য আসামীরা কি জামিনে আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী জানান মোট ১১জন আসামীর মধ্যে চারজন আসামী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। দীর্ঘ ৪ মাস তারা কারাভোগের পর জামিনে বের হয়। কিন্তু মামলার এক থেকে তিন নাম্বার আসামী সহ প্রায় সাতজন আসামী দুই বছর যাবত আদালতে হাজির না হয়ে পরোয়ানা মাথায় নিয়ে এখনো এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে,যারা আবুল বসরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন নির্যাতিত কর্মী হিসেবে প্রশাসনের কাছে আমার একটি চাওয়া আবুল বশরকে যেন আমার ভাইয়ের হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়। কারণ আমার বড় ভাই মুস্তাফিজুর রহমানও জননেত্রীর শেখ হাসিনার একজন পাগল ভক্ত ও নিবেদিত কর্মী ছিলেন। অনুসদ্ধানে জানা যায় মুস্তাফিজ হত্যা মামলার আসামী আবুল বসর নামক ব্যক্তিটি এক সময় সাগরে পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।

পরবর্তীতে তিনি জমির দালালীর পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা ব্যবসায়। যদিও তিনি এই ব্যবসা অতি গোপনের সাথে করতেন বলে একটি সূত্রে জানা যায়। সেই পোনা জেলে আবুল বসর ও তার দুই স্ত্রীর নামে এখন প্রায় ৮০ বিঘা জমি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। নির্মাণাধীন আছে আলিশান দালান বাড়ি।

তিনি ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। যে টাকা দিয়ে তিনি অনেক সময় এলাকার নিরহ মানুষদের যুগযুগ ধরে দখলকৃত খাসজমি তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আবার জোর দখল, মামলা দিয়ে হয়রানী, হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া,মারধর সহ তার কথা মত চলতে বাধ্য করেন।

তাই এলাকার নিরহ জনগণ আবুল বসরের বেপরোয়া জীবন, মামলাবাজি, হুমকি দমকি, ও নিরীহ ব্যক্তির জমি জোর দখল বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিষয়ে আবুল বসরের বক্তব্য নিতে তার মোবাইলে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে এ ব্যাপারে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) নাহিদ আদনান তাহিয়ান জানান মামলাটি তদন্তনাধীন আছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কে আইনের আওতায় আনা হবে।