বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক॥
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের নব নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের পাহাড় গড়ে উঠেছে। বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উঠে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ইউনিট এর সহ-সভাপতি ও দৈনিক আজকের দেশ-বিদেশ পত্রিকার বাহারছড়া প্রতিনিধি রিয়াজুল হাসান খোকন তদন্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আলমের কাছে কারেন্ট জাল আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে মাকসুদ আলম তাকে মা-বাবাকে কটুক্তি করে অকাট্য ভাষায় গালিগালাজ করে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারী দৈনিক আজকের দেশ-বিদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এর পূর্বে বাহারছড়ার একটি সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকেরা ছবি করতে গেলে তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেয়।

তাছাড়া সাংবাদিকেরা ফোনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের ক্রস ফায়ারের হুমকি দেয়।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাষ্টার্স সম্পন্ন ও বাহারছড়া শামলাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল “এখানকার সব শিক্ষকেরাই গরু-ছাগল” ।

তাছাড়াও শামলাপুর বাজারে দিন-দুপুরে এক ইয়াবা পাচারকারীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে স্বাক্ষীর স্বাক্ষর আদায় করে পাচারকারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের না করে পাচারকারীকে ৩০০০০হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় নেহায়ত গরীব ও ভিক্ষুক বাঁচা মিয়ার পরিবার। বাঁচা মিয়ার পরিবারের খালেদা ও সেলিনা আক্তার জানান, জায়গা জমির বিষয় নিয়ে স্থানীয় নুরুল আলম কোম্পানীর পরিবারের সাথে সংঘর্ষ হয়। উক্ত ঘটনায় খালেদা ও সেলিনা আক্তারকে প্রতিপক্ষ প্রচুর মারধর করে পরে তাদের কক্সবাজার সদস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় বাঁচা মিয়ার পরিবার মামলা করতে চাইলে মাকসুদ বিবাদী পক্ষ থেকে হাদিয়া অপঢৌকন নিয়ে বাদী পক্ষের মামলা নেয়নি এবং বাদী পক্ষ বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করবে বলে উল্টো হুমকি দেয় মাকসুদ আলম।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শামলাপুরের এক পত্রিকার হকার, হকার জানান, প্রতিদিন পুলিশ ফাঁড়িতে পত্রিকা নেয়, ১মাস পর ফাঁড়িতে পত্রিকার বিল চাইতে গেলে আমাকে বলে; ” চলে যা, এখানে টাকার জন্য আবার আসলে লাথি মারব”।

তাছাড়াও তার কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের অনেক কনস্টেবলও অন্যত্রে বদলী হওয়ার জন্য তার কাছে দরখাস্ত করলে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

তার এ কার্যকলাপ বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের অতীতের কয়েক ইয়াবা সম্্রাট এস.আইকে ক্রস করেছে।

বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ঐ তালিকাভ’ক্ত এসআইগুলো বদলী হয়ে যাওয়ার পর বাহারছড়ার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার খুব উন্নতি হয়েছিল।

সম্প্রতি মাকসুদ আলম যোগদানের পর থেকে এলাকার আইন শৃঙ্খলা অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে শামলাপুর পুরানপাড়া থেকে কোটি টাকার ইয়াবা আটক করেছে ডিবি। অথচ মাকসুদ আলমের নাকের ডগায় এসব দেশ ও সমাজবিরুধী কর্মকান্ডগুলো চলে আসলেও তিনি এ সম্পর্কে বেমালুম।

সংবাদকর্মীদের কাজ অপকর্মের কথা তুলে ধরা আর এর বিহিত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

তবে যথেষ্ট প্রশংসা কুঁড়িয়েছে উক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ মুন্সি।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকার সাধারণ জনগণ উক্ত তদন্তকেন্দ্রে একজন দায়িত্বশীল ইনচার্জ নিয়োগের দাবী জানান।

অভিযোগের ব্যাপারে মাকসুদ আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে (০১৮২০১১৬০৭৪) বারবার কল দেওয়া হলেও সংযোগ না দেওয়ায় বক্তব্য জানা যায় নি।