নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম :
টেকনাফে খেলার মাঠে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে পিটুনিতে মুজিব উল্লাহ(১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে। নিহত ছাত্র টেকনাফের নয়াপাড়া আলহাজ্ব নবী হোছাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ও সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে।
২৩ জুন (শুক্রবার দিনগত রাত) সাড়ে ১২টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহত ছাত্রের পিতা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের সমবয়সী কয়েকজন মুজিব উল্লাহকে খেলার জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দেখতে পান ছেলে অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়ি ফিরছে। কিন্তু বিষয়টি মারাত্মক কিছু মনে না করে এসময় তাকে গোসল করে নামাজে যাওয়ার জন্য বলে নিজেও মসজিদে চলে যান। পরে জুমার নামাজের পর ফিরে দেখেন ছেলে হুশ হারিয়ে ফেলেছে। তখন দেরী না করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে সিএমএইচ এ নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। মাথায় আঘাতের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের বরাতে তিনি জানান। এছাড়া মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি দাবী করেছেন, খেলার এক পর্যায়ে সেন্ডেল লুকিয়ে রাখার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ায় স্থানীয় কবির আহমদের ছেলে জাহেদ উল্লাহ, সাদেক সহ ৪-৫ জন মুজিব উল্লাহকে বেদম মারধর করে বলে জানতে পেরেছেন। এতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নয়াপাড়া নবী হোছাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় শেখর দত্ত জানান, তিনি শুক্রবার ছুটি থাকায় বিদ্যালয়ে ছিলেন না। শনিবার সকালে ফেরার পর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারেন এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা। খেলার মাঠে অন্যান্য ছেলেদের সাথে মারপিটের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনজিত কুমার বড়–য়া জানান, বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। এব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ছাত্রের মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং
রাত ১১টায় জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যার মারধরে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সেই জাহেদ উল্লাহ ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর আর স্কুলে যায় নি। সে মুজিব উল্লাহর চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের বড় হলেও পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় একসাথে খেলাধুলা করতো। তবে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে সে বখাটে টাইপের হয়ে উঠছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।
মুজিব উল্লাহর মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের পরিবার গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে জাহেদ উল্লাহর ভাই রশিদ মুঠোফোনে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন খেলার মাঠে সেন্ডেল লুকিয়ে রাখার ঘটনায় বাড়াবাড়ি ও ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারধরে মুজিব উল্লাহ আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারা গেছে। তাছাড়া তাদের মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের সবাই আলাদা আলাদা ভাবে বসবাস করে আসছেন এবং জাহেদ নিজেও সেলসম্যানের চাকরী করে আলাদা ভাবে থাকতেন বলে জানান তিনি।
