এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (দোয়াত কলম) প্রতীকে ১৭ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এম আজিজুল হক (চশমা) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য উন্মে কুলছুম মিনু (ফুটবল) নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি ভোট কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফলাফলের প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিজয়ী চেয়ারম্যান পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (দোয়াত কলম) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭৭ ভোট। নিকটতম হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ( নৌকা)। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৬ শত ৬৯ ভোট। অপর বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন (আনারস) প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৬ শত ১৬ ভোট।
গতকাল রোববার ২৪ মার্চ পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রে গোলযোগ ছাড়া ৩৯ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সকালের দিকে মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিণ মগনামা সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর পর সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। ওইসময় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একপক্ষ বেশ ক’রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এতে ভোটারদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হলে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে চারজন আহত হয়েছে। তবে এই চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে মর্মে প্রচার হলেও বাস্তবে তারা সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাদের বাড়ি দক্ষিণ মগনামা এলাকায়।
সকাল ৯টার দিকে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেন্দ্রের বাইরে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টা ধাওয়া ও ফাঁকা গুলির শব্দ শোন যায়। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো.ওসমাণ গনি বলেন, ফাঁকা গুলির ঘটনার পর তার কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে প্রশাসনের কঠোর তৎপরতার কারণে কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরপর পুনরায় ভোট গ্রহন শুরু করা হয়।
এদিকে উপজেলার সাত ইউনিয়নের বাকী ৩৯টি কেন্দ্রে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপজেলা পরিষদের বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্তে¡ও সকল ধরণের ভয়ভীতি ও আতঙ্ক উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটাররা সকাল থেকেই প্রায়ই কেন্দ্রে যথারীতি ভোট প্রদান করেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। তবে পুরুষের চেয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতোই। কোন কোন কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকে ভোটার উপস্থিতি নগন্য হলেও আবার কোন কেন্দ্রে বিকেলেও ভোট দিতে আসেন ভোটাররা। সবমিলিয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি ভোট উপহার পেয়েছেন পেকুয়াবাসী। সরজমিন পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সিংহভাগ কেন্দ্র ঘুরে এই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জনসহ ১২জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘সকালের দিকে মগনামা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ছাড়া বাকী ৩৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আশা করি ফলাফল প্রকাশ পরবর্তী সময়ে এলাকায় কোন ধরণের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘœ ঘটবে না।’ তিনি বলেন, সেই ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষথেকে আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি।
পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটানিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠিয় নির্বাচনে সুষ্টু ও নিরপেক্ষ ভোট আদায়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষথেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গতকাল ৪০টি কেন্দ্রে ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ সদস্য করে ১শত সদস্য নিয়ে ৫ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১৬৮ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গে ছিলেন চার শতাধিক আনসার সদস্য। এছাড়াও নির্বাচন চলাকালে পুলিশের তিনটি টিম স্ট্রাইকিং ও ১০টি মোবাইল টিম মাঠে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন নারী-পুরুষ ভোটারের জন্য ৪০টি কেন্দ্রের ২৫০টি বুথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেইজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়।
