চকরিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বাজারের ৫৭ দোকান ভস্মীভূত, ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাংচুর, হামলায় ৭ কর্মি আহত

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলা উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে স্থানীয় বাজারের অন্তত ৫৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্থরা। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পুরাতন ফেরীঘাট (জীপ ষ্টেশন) এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছতে বিলম্ব হলে স্থানীয় জনতা তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৭ কর্মী আহত এবং তাদের পানিবাহি গাড়ী ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার।
এদিকে অগ্নিকান্ডের গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। ওইসময় স্থানীয় বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অগ্নিকান্ডের ঘটনা সম্পর্কে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, শুক্রবার রাতে বদরখালী পুরাতন ফেরিঘাট ষ্টেশন এলাকায় দোকানের ব্যবসায়ীরা যার যার মতো করে বেচাবিক্রি শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আকস্মিক ভাবে আগুন সৃষ্টি হলে মূহুর্তে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বাজারের অন্তত ৫৭টি দোকান কমবেশি পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে যায়।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, রাতে আগুন লাগার পর খবর দেয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়ক্ষেপন করে। এ অবস্থার কারনে বাজারের বেশি পরিমাণ দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে তিনি ধারণা করছেন, ৫৭টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
বাজার সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানের মধ্যে আছে মুদির দোকান, খাবার হোটেল, পানের দোকান, সিএনজি ও রিক্সার গ্যারেজ, ফলমন্ডিসহ রকমারি দোকান। এছাড়াও ওইসময় গ্যারেজ থাকা তিনটি সিএনজি অটোরিক্সা এবং ১২টি ভ্যানগাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, বদরখালী ইউপি পরিষদের পক্ষথেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে যে সব ব্যাক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া বাজারটি শনিবার সকালে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা তৈরী করে উপজেলা প্রশাসনে জমা দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তালিকা হাতে পেলে ক্ষতিগ্রস্থদেরকে যাতে সহায়তা করা যায় সেইজন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।