নিজস্ব প্রতিনিধি।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকায় ছোট ভাইকে অপহরণের ঘটনায় বাঁধা দেওয়ায় বড় ভাইকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম, বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাতের ঘটনায় হামলাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরছে। অপরদিকে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে আতংকে দিনাতিপাত করছে হামলার শিকার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় অভিযোগ প্রদান করেছেন আহতের পিতা বদিউর রহমান। অপরদিকে থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ডাকাত হোসন আহমদের স্ত্রী হামিদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নই এ ঘটনায় হামলাকারীরা উল্টো মামলা সাঁজানোর পায়তারা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
গত ১৫ নভেম্বর বুধবার রাত ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া গ্রামে নৃশংশ হামলার এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে হামলার শিকার লোকজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সন্ধার কিছু পর মৌলভী পাড়া থানার ডেইল এলাকার বদিউর রহমানের মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে রবিউল (৮) বাড়ি থেকে পাঁচশ টাকার নোট ও হাতে মোবাইল নিয়ে পাশ্ববর্তী দোকানে স্কেল ক্রয় করতে যায়। এসময় সড়কের পাশে অন্ধকারে উৎপেতে থাকা বড় হাবির পাড়া এলাকার নুর আহমদের ছেলে বখাটে ও মাদকসেবী শব্বির আহমদ রবিউলকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গিয়ে টাকা ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখে। এসময় পথচারী এলাকার এক শিশু এ ঘটনা দেখে রবিউলের বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে রবিউলের বড় ভাই ইব্রাহিম ও বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউলকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর আহমদের ছেলে শব্বির আহমদ, জহির আহমদ, হোসন আহমদ, রশিদ আহমদ ও নজিরের ছেলে ফরিদ আহমদ, ডাকাত হোসন আহমদের স্ত্রী হামিদা বেগম, ছেম বানু, নুর বেগম, আনোয়ারা বেগম সহ তাদের সহযোগীরা দা-কিরিচ, লাঠি-সোটা, ইটপাটকেল নিয়ে বদিউর রহমানের বসত বাড়ীতে ঢুকে বাড়ির লোকজনকে এলোপাতাড়ী কুপাতে থাকে। একপর্যায়ে বদিউর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম (২২) ও বেলাল হোসেন (২০) কে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রাখে। পরে সন্ত্রাসীরা বদিউর রহমানের ভাড়া বাসায় অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া কয়েক সন্ত্রাসী বাড়ির ভিতর ঢুকে লুটপাত চালাতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় তিনি ডাকাত হোসন আহমদের স্ত্রী হামিদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
পরে আহত বেলাল ও ইব্রাহিমকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইব্রাহিমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন ও বেলালকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ইব্রাহিমের হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে ইব্রাহিম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার শিকার পরিবারের কর্তা বদিউর রহমান জানান, অপহরণের ঘটনা এলাকার এক ছোট শিশু দেখে ফেলায় আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে পেরেছি নাহলে সন্ত্রাসীরা হয়তো মোবাইল ও অল্প টাকার জন্য আমার ছেলেকে মেরে ফেলতো। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা লম্বা দা, কিরিচ নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়ির লোকজনকে এলোপাতাড়ী মারধর করে তার দুই ছেলেকে জখম করে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাত চালায়।
এলাকাবাসী জানায় এরা এলাকার চিহ্নিত সড়ক ডাকাত। প্রায় প্রতিরাতে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়কের মৌলভী পাড়া এলাকায় সড়কে ডাকাতি সংঘঠিত করে থাকে। এছাড়া তারা মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত।
এলাকাবাসী সন্ত্রাসী অপহরণকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তপূর্বক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
