সাদ্দাম হোসাইন, টেকনাফ:
টেকনাফে কালো টাকা ও পেশীশক্তির প্রভাবে এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার,জমি বিরোধ, হামলা ও পাল্টা হামলায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বিদ্যমান একটি গ্রæপের হামলায় প্রতিপক্ষের বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত ছাত্রকে পোস্টমর্টেম শেষে দাফন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা যায়,১৬ নভেম্বর বাদে এশা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে মৃত আব্দুস সালামের পুত্র ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এলএলবির ছাত্র মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঢালুকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বাদে মাগরিব কক্সবাজার মর্গ হতে পোস্টমর্টেম শেষে তার মৃতদেহ বাড়িতে আনা হয়। এই ব্যাপারে রাত সাড়ে ৮টায় টেকনাফ মডেল থানা ডিউটি অফিসারের নিকট জানতে চাইলে এখনো মামলা দায়ের হয়নি তবে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য,গত ২৫ আগষ্ট রাতে টেকনাফ পৌরসভার পান বাজারের আল মদিনা পার্টেসর দোকানে ১টি ছাগল চুরির বিচারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরধরে মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত ফয়েজুর রহমানের পুত্র আবুল বশর ও ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র আব্দুল হামিদ মেম্বারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বশর ও তার লোকজন আব্দুল হামিদ মেম্বারের উপর হামলা চালিয়ে বাম পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই ব্যাপারে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় আবুল বশর হাজমপাড়ায় রায়হান ফার্মেসীতে ঔষুধ ক্রয় করার সময় একদল দূবৃর্ত্ত সাদা রংয়ের একটি নৌহাযোগে এসে দা-কিরিচ নিয়ে হামলা করে পালিয়ে যায়। এই হামলার জন্য আব্দুল হামিদ মেম্বারকে দায়ী করেন বশর গ্রæপ। কিন্তু সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের সাথে জমি ও মামলা বিরোধ থাকায় এই ঘটনার সাথে সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন। এই ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর বশর গ্রæপ সংগঠিত হয়ে মৃত মোঃ রাবুল হাকিমের পুত্র সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে নুরুল ইসলাম মেম্বারের ডান পা গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কেটে ফেলতে হয়েছে। এই ব্যাপারেও একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব বিষয়াদি নিয়ে তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। এরই জেরধরে গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাতাড়ি চুরিকাঘাত করে বশরের শালা ও ভার্সিটি ছাত্র দেলোয়ার হোছনকে নির্মমভাবে খুন করে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পূর্বেই তার মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবী করেন।
