কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে যুবলীগের পাল্টা ভূঁয়া কমিটি ফেইজ-বুকে প্রচার নিয়ে এলাকায় তোলপাড়

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) থেকেঃ
রাজনীতিতে ত্যাগ আর পরিশ্রম কখনো বেঈমানী করে না। ঠিক তারই উজ্জ্বল প্রমাণ পাওয়া গেছে রামুর কচ্ছপিয়ায়। সম্প্রতি রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে নানা আলোচনা সমালোচনা। সবচেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুকে। আর এদিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের আবারও পাল্টা কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইজ বুক) প্রচার করে সাধারণ সম্পাদক দাবী করেছেন কচ্ছপিয়ার নামধারী যুবলীগ এম,সেলিম। এ নিয়ে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজারের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বস্থরের মানুষের মূখে মুখে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সব বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বলেন, রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন সিকদার ওরফে সোহেল।
যুবলীগের পাল্টা কমিটি প্রচার নিয়ে যে কোন সময় সংঘাত হওয়ার আশংক রয়েছে বলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা- কর্মীরা জানান। সম্প্রতি দুই গ্রুপের সংঘাত এড়াতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪৪ ধারা জারি করার প্রয়োজন বলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা মত প্রকাশ করেন।
আর কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি খুরশেদ আলম এই প্রতিবেদককে জানান,
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের নজরুল ইসলাম সভাপতি নাছির উদ্দীন সিকদার সোহেল সাধারণ সম্পাদক নিয়ে যে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে বিতর্ক ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন আমার জনা মতে কোন নতুন বা রদবদল কমিটি হয় নাই। নজরুল-সোহেল অনুমোদিত ওই কমিটি ফাইল জেলা কমিটির কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি নজরুল ইসলাম সভাপতি এম,সেলিম সাধারণ সম্পাদক করে যে পাল্টা কমিটি প্রচার করেছে সেই কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। এম,সেলিম যুবলীগের কেউ নন। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার বিষয় নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম সভাপতি নাছির উদ্দীন সিকদার (সোহেল) সাধারণ সম্পাদক করে যে কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল সেই কমিটি ছিল জামায়াত -বিএনপির জন্য এক আতংকের কমিটি। সেই শক্তিশালী কমিটিকে দুর্বল করার জন্য যুবলীগ নামধারী এবং জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এম,সেলিম উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়ার স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া কমিটি প্রচার করায় ক্ষেপে গেছেন উপজেলা যুবলীগ নেতৃবৃন্দরা।
ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দরা বলেন, নজরুল ইসলাম আর এম,সেলিম নিয়ে যে কমিটি প্রচার করা হয়েছে তা প্যাডের উপরের শিরোভাগে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন শাখার নাম উল্ল্যেখিত প্যাডে কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুক) প্রচার করায় প্রমাণিত হয়,এইটি সম্পূর্ণ ভূঁয়া কমিটি। সংগঠনের এই ধরণের নিয়ম নেই, ইউনিয়ন সংগঠনের প্যাডে ইউনিয়ন যুবলীগের অনুমোদন দেওয়া। আমাদের এই প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা এই যাবৎ সংগঠনিক নিয়ম দেখে আসচ্ছি ইউনিয়ন সংগঠনকে অনুমোদন দেওয়া হয় উপজেলা সংগঠনের প্যাডে। উপজেলার সংগঠনকে অনুমোদন দেওয়া হয় জেলা সংগঠনের প্যাডে। আর জেলার সংগঠনকে অনুমোদন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্যাডে। চোরেরা বড় ধরনের জালিয়তি করতে গেলে জালিয়তির কিছু আলামত থেকে যায়। তাই ধান্দাবাজ ও জালিয়তির হেডমাষ্টার এম,সেলিমের জালিয়তি করাতে তাই হয়েছে। এই জালিয়তি কমিটির জন্য সাংগঠিক শাস্তির দাবী করছেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
দলীয় সূত্রে আরও জানাযায়, সদ্য ঘোষিত জামায়াত-বিএনপি,র আতংক এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে কাজ করার শক্তিশালী বৈধ নজরুল-সোহেল কমিটিকে ভেঙ্গে দিয়ে জামায়াত-বিএনপির লেজুর ভিত্তিক কমিটি করার পায়তাঁরা চালাচ্ছে এক শ্রণির ধান্দাবাজ নেতারা। এসব ধান্দাবাজ নেতারা সম্মেলন করার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়ে নজরুল ইসলাম সভাপতি এম,সেলিম সাধারণ সম্পাদক সাজিয়ে সম্পূর্ণ ভূয়াঁ কমিটি প্রচার করেছে বলে উপজেলার একাধিক সিনিয়র যুবলীগ নেতাদের দাবী উঠেছে।
যুবলীগের একাধিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এম,সেলিম যুবলীগের ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কোন সময় সদস্যও ছিলনা।সে কি ভাবে এক লাফে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়? এসব পাল্টা ভূয়াঁ কমিটি প্রচার করতে থাকলে আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনসহ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুনামের আস্থা হারিয়ে যাওয়ার আশংকও রয়েছে। তাই যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ সমর্থীত নেতা-কর্মীরা এই অপ-প্রচার ও সংঘাত এড়ানোর জন্য জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বিগত সংসদ, উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন সিকদার সোহেল। কিন্তু যুবলীগের সুশৃঙ্খল এ কর্মকান্ড নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী এলাকায় নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা এম সেলিমকে কূটকৌশলে যুবলীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে প্রচার করছেন। যা দলের সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধী।