খাঁন মাহমুদ আইউব, টেকনাফ :
কক্সবাজার’র টেকনাফে সরকারী স্বাস্থ্য সহকারীর জমি বিক্রির নগদ ৫লক্ষ টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণ অলংকার সহ বিগত ৫ মে তারিখ থেকে পিত্রালয়ের পরোচনায় ৩৯ দিনের শিশুকে নিয়ে বোনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য গুম করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার ভাইদের বিরুদ্ধে।তার আপন সহোদর খোবাইয়ব ভূয়া নাম ব্যবহার করে বিদেশ গমনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরীর প্রমান মিলেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামের রোহিঙ্গা হোসেন আহমদের মেয়ে মরিয়ম আক্তারে সাথে প্রেমের সূত্র ধরে ডেইল পাড়া এলাকার মাষ্টার আব্দুর রঊফের ছেলে হোয়াইক্যং (কর্মরত) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পারিবার পরিকল্পনা কর্মচারী হাফেজ আহমদের সাথে বিগত ২০০৬ সালে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়েছিল। তাদের সংসারে ২টি কন্যা এবং ১টি ছেলে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।খোঁজ নিয়ে আরো জানাগেছে, বিয়ের পর থেকে স্বামীকে নিয়ে স্বীর পিত্রালয়ে চলে যাওয়ার জন্য ভাই সাজ্জাদ হোসেন (৪০) ও খোবাইয়েব উদ্দীন (২০) প্রবাসী মোহাম্মদ রাশেদ (৪৫) মালয়েশিয়া থেকে ফোনে ইন্ধন যোগাতে থাকে।শুরুর দিকে ভাইদের কথা কর্ণপাত না করলেও প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকে ভাইদের কথা মতো বিভিন্ন ভাবে আশান্তি শুরু করে বলে স্বামী হাফেজ আহমদ দাবী করেন।এই সব বিষয় নিয়ে আগেও বেশ কয়েকবার পারিবারিক ও টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগের সূত্র ধরে শালিশি বৈঠকে মিমাংসা হয়েছে বলে জানাগেছে।
কিন্তু মূল বিষয় আনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে থলের বিড়াল,সুত্র মতে মরিয়মের বড় ভাই মালয়েশিয়া আদমপাচারের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে স্বামী হাফেজ আহমদ।তার রোহিঙ্গা স্ত্রী তসলিমা কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।
স্ত্রী মরিয়ম ছোট ভাই খোবাইব কে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে জাতীয়তা সনদ পত্র বানিয়ে দেয়ার জন্য অবৈধ প্রস্তাব দিয়ে ছিলো স্বামী হাফেজ আহমদকে।কিন্তু তিনি তা অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে কৌশলী পারিবারিক দন্ড।সর্বশেষ খোবাইব গোদার বিল এলাকার ভূয়া ঠিকানায় পিতার নাম আব্দুল জলিল মাতার নাম রহিমা খাতুন দিয়ে ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে (১৯৯৬২২১৯০৬০০০০৬২) কার্ড তৈরী করে।এদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,আব্দুল জলিল বাড়ি গোদারবিল এলাকায় তার খোবাইব নামে কোন সন্তান নেই।তবে খোবাইবের কাছে জানতে তার মুটোফোনা রিং দিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি।
স্ত্রীর পিত্রালয়ে যেতে রাজী না হওয়ায় গত বছরের ২৩ আগষ্ট এবং গত ১৪ মার্চ স্ত্রী মরিয়ামের ভাইয়েরা মিলে হামলা করে।সে সময় তার কাছ থেকে সরকার প্রদত্ত ট্যাব ছিনিয়ে নিয়ে মারাত্বক জখম করে।যা স্থানীয় প্রশাসন অবগত রয়েছে বলে প্রমান মিলেছে।
পক্ষন্তরে চলতি মাসের ১৩ তারিখ ৩৯ দিনের নবজাতক সহ স্ত্রী মরিয়ম অপর দুই সন্তান কে রেখে পিত্রালয়ে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে ভাইদের ইন্ধনে আত্ব গুপনে রয়েছে।
স্বামী হাফেজ আহমদ দাবী করেন, স্ত্রী মরিয়মকে বিদেশে পাচার করে দেয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরীর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে তিনি বিশ্বস্থ সূত্রে নিশ্চিত হয়েছেন।সরে জমিনে হাফেজ আহমদের বড় বোন ছালেহার বাড়ি ডেইল পাড়া গিয়ে দেখা গেছে মা হীন অবস্থায় করুন আর্থনাদ ফেলে যাওয়া বাচ্চা দুটির।
এদিকে হাফেজ আহমদের মানষিক আবস্থা চরম পর্যায়ে।তিনি তার কর্মক্ষেত্রে দায়ীত্ব পালন করতে পারছেন না।টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী ইনচার্জ মি. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন হাফেজ আহমদের মানষিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে চিকিৎসার জন্য তিন মাসে ছুটি দেয়া হয়েছে।তবে হাফেজ আহমদ এখনো মারাত্বক অসুস্থ বলে দাবী করেন এবং বিষটি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এইসব বিনদেশী ভাইরাস খ্যাত রোহিঙ্গাদের কৌশলী অপতৎপরতা বন্ধ ও জাতীয়তা সনদ সহ সকল প্রকার জন্ম নিবন্ধন বাতিল করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।
তাই উক্ত ঘটনা বিশ্লেষন পূর্বক অবুঝ ৩ শিশুর ভবিষ্যত গড়তে সুস্থ সমাধানের জন্য মানবিক বিবেচনাবোধ থেকে স্থানীয় জন প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংঘটন ও প্রশাসন কে এগিয়ে আসা একান্ত জরুরী।
