সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমা থেকে নৌকাসহ ১৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মাছ শিকারের সময় মিয়ানমার থেকে স্পীড বোট যোগে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে যাওয়া নৌকার মালিকরা হলেন, মীর কাশেম, মো. মুস্তাফিজ ও কালু। তারা তিনজনই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা। বাকি ১১ জেলে শাহপরীরদ্বীপ মাঝের পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়ার বাসিন্দা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন,’জেলেদের ধরে নিয়ে
বিষয়টি শুনেছি। কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি জানার চেষ্টা চলছে। আর জেলেদের বিষয়ে আমাদের সীমান্তে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের সাথে আলোচনা করে করে, তাদের ফেরত আনার প্রচেষ্টা চালানো হবে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে জালাল জানান, শাহপরীরদ্বীপের ৫-৬টি নৌকা ভোর তিনটার দিকে সাগরে রওনা হয়ে সেন্টমার্টিনের পূর্বে সাগরে জাল বসায়। সকালের দিকে ফিরে আসার প্রস্তুতি চলছিল। এসময় আরাকান আর্মি অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজিবিকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের পরিবারের লোকজনের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে গত ১৮ ও ১৯ মার্চ দুই দফায় নাফ নদীর মোহনা থেকে ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
স্থানীয় জেলেদের মতে, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ শতাধিক জেলেকে নানা সময় আরকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসেন ৭৩ জেলে। এখনও অন্তত দুইশতাধিক জেলে আরাকান আর্মি হেফাজতে আটকা রয়েছেন বলে জানান তারা।
আজকে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৪ জেলে হচ্ছে,
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন,মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের ( ৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪) ও রহিম উল্লাহ(২৫)।
