কক্সবাজারে ব্রয়লার মুরগী কিনতে গিয়েই ২০১৬ সালে নিখোঁজ টেকনাফের ৩ ব্যক্তির সন্ধান এখনো মিলেনি

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

শহীদ উল্লাহ,টেকনাফ :- কক্সবাজার জেলা শহরে ২০১৬সালে ব্রয়লার মুরগী কিনতে গিয়েই লিংক রোড হতে ২জন ও কলাতলীর আবাসিক হোটেল হতে ১জনসহ অপহৃত মোট ৩ব্যক্তির সন্ধান দীর্ঘ ৯বছর পর্যন্ত না পাওয়ায় শোকাহত পরিবারে এখনো কান্নারোল বইছে। শোকাহত পরিবারের আত্নবিশ্বাস তাদের সন্তানেরা এখনো অজ্ঞাত স্থানে জীবিত রয়েছে বলে ধারণা করছে। তাই এই ৩জন ব্যক্তিকে উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

২৯ আগস্ট সকালে টেকনাফ সদর ইউপির জাহাঁলিয়াপাড়ার শামশু মিয়ার পুত্র মোঃ আব্দুল্লাহর শোকে
মানসিক প্রতিবন্ধি মা রহিমা খাতুনসহ পরিবারের সদস্যরা জানান,২০১৬সালের ১৩জানুয়ারী সকাল ৯টারদিকে মোঃ আব্দুল্লাহ এবং সেন্টমার্টিনের বন্ধু জয়নাল কক্সবাজার লিংক রোড এলাকায় মুরগীর খাবারের পাত্র কিনতে গিয়ে দোকানের সামনে পৌঁছার কিছুক্ষণ পর সাদা পোষাকধারী আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ২জনকে এবং কলাতলীর ১টি আবাসিক হোটেল হতে টেকনাফ জাহালিয়া পাড়ার আবদুল মোতালেবের পুত্র জাহেদ হোসেন জাকুসহ ৩জনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। কোন রহস্যজনক কারণে এই ৩জন নিখোঁজ হলেন সেই কূল কিনারাও পায়নি। এমনকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধর্ণা দিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। তাই উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে পরিবার। পরিবারে বিরাজ করছে গভীর হতাশা ও শূন্যতা। কিন্তু জয়নাল ও জাকুর পরিবার তাদের ছেলেকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে আবেদন করলেও আব্দুল্লাহর পরিবার তাদের ছেলে ফিরে আসবে আসবে এই আশায় এখনো পথ চেয়ে আছে।

এদিকে আদরের ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক আব্দুল্লাহর মা রহিমা খাতুন। ঘটনার পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে নির্জীব হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায়। গত কয়েক বছর ধরে মায়ের কান্না থামলেও কিন্তু ছেলে আর ফিরে আসে না। পরিবারসহ এলাকাবাসীর প্রশ্ন এমন কি অপরাধ ছিল মোঃ আব্দুল্লাহর । যে কারণে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হলেন তিনি। মোঃ আব্দুল্লাহর মা রহিমা খাতুন জানান, আমার ছেলে কোন ধরনের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। কি কারণে, কেন তুলে নিয়ে যাওয়া হলো আমি জানি না। তিনি এখনো আশাবাদী তার বুকের ধন প্রাণপ্রিয় সন্তান একদিন ফিরে আসবে।

এই ব্যাপারে নিখোঁজ মোঃ আব্দুল্লাহ, জয়নাল জাহেদের পরিবার প্রশাসনের কাছে নিখোঁজদের ফিরে পেতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করত আকুল আবেদন জানিয়েছেন। ###