সীমান্ত বানিজ্যের আড়ালে হুন্ডি! ৫০ লাখ নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ : কর্মচারীসহ আটক-৩

লেখক: অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ২ years ago

নগদ অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে দেওয়া কর্মচারী এখন কারাগারে। শুধু তাই নয় এই টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে আটক হয় সেই কর্মচারীর বাবা ও বোনও। পরে তাদেরকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এই অংকের নগদ টাকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ঘটনাটি ঘটেছে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের পৌর এলাকায়।

জানা, টেকনাফ পৌর সভার বাজারে বড় বাজার দোকানের স্বত্বাধিকারী সজিব। এই সজিব পৈত্রিক ভাবে সাতকানিয়া এলাকার হলেও ব্যবসা করে আসছে টেকনাফে। সেখানে কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে নিয়োজিত রয়েছে স্হানীয় কোলাল পাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম।

জুন মাসের প্রথম দিকে দোকান কর্মচারী নুরুল ইসলাম ৬০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে চাউর হয়। লোকজন লাগিয়ে উক্ত কর্মচারীকে খুজতে থাকে সজিব। এক পর্যায়ে দোকান ম্যানেজার সোহেলকে বাদী করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ গত ৮ জুলাই রাঙ্গামাটি এলাকা থেকে নুরুল ইসলামকে নগদ এক লাখ টাকাসহ আটক করে। এরপর পরের দিন টেকনাফ কলেজ পাড়া এলাকা থেকে নুরুল ইসলামের বোনের বাড়ির ভিটায় মাটির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬ লাখ টাকা। পুলিশ উদ্ধার কৃত টাকা ও ঘটনার সাথে আটক কর্মচারী নুরুল ইসলাম, তার পিতা ও বোনকেও মামলার আসামি হিসেবে আটক করে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, “বড় বাজার ” নামের দোকান মালিক বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত বানিজ্যে ব্যবসা করে। এই ব্যবসা চলে ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে। অপর একটি সূত্র দাবী করেছে।

টেকনাফে ছোট একটি দোকানে এলুমিনিয়ামের জিনিসপত্র বেচাকেনা করতো সজিবের পিতা বক্কর সওদাগর। পরে সীমান্তের বৈধ অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে যায় সজিব। সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সীমান্ত বানিজ্যের আড়ালে মাদক ও হুন্ডি চক্রের। শুধু তাই মিয়ানমারে ইয়াবাসহ আটক রাখাইনের মংডু শহরের কালা আহমেদ ওরফে আমির আহমেদ প্রধান সহযোগী এই সজিব। কালা আহমেদকে মো আমির আহমেদ হিসেবে বাংলাদেশী এনআইডি ও পাসপোর্টও তৈরি করে দেয় এই সজিব। বেশ কিছু দিন আগে সজিব মিয়ানমার গিয়ে রেঙ্গুন হয়ে কারাগারে কালা আহমেদ এর সাথে দেখা করে। পরে কালা আহমেদ এর স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে বাংলাদেশে কৌশলে নৌ পথে নিয়ে আসে। চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা ফাতেমাকে আগে থেকে ভোটার ও পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়। এবং কালা আহমেদের স্ত্রী ফাতেমা থেকে জমি কিনে চট্টগ্রামে দালান তৈরি করে সজিব।

এদিকে আটক কর্মচারী নুরুল ইসলাম আদালতে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে এসব টাকা হুন্ডি চক্রের। এ বিষয়ে বড় বাজারের মালিক সজিব জানান, মিয়ানমার থেকে সীমান্ত বানিজ্যের মালামাল আসবে। জুন ফাইনাল হিসেবে ব্যাংক লেনদেন বিঘ্ন হবে তাই নগদ ৫০ লাখ টাকা হাতে রেখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত বানিজ্যের একজন বড় আমদানি কারক বলেও জানান।

মামলার বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার উপ- পরিদর্শক ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ” মাটির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা গুলো ভিজা ছিল, পরে টাকা গুলো শুকিয়ে জব্দ করে রাখা হয়েছে। এই টাকা গুলো আসলে হুন্ডি নাকি বৈধ ব্যবসার তদন্ত চলছে
আসামি রিমান্ডে এনে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।