হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফের হ্নীলা মৌলভী বাজারে একটি সড়কের গাছ কর্তন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার জেরধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেআইনীভাবে সড়কের গাছ কর্তনে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং সমিলের গাছ তালিকামূলে জব্দ করে নিলাম করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
জানা যায়,২৯জুন (শনিবার) দুপুর ১টারদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী হ্নীলা ইউপির ২নং ওয়ার্ড মৌলভী বাজার-অইর পাড়া সড়কে সৃজিত বাগানের গাছ কর্তন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি সড়ক বাগান পরিদর্শন এবং কর্তন করা গাছ মওজুদকৃত সমিল পরিদর্শন করলেও গাছ কর্তনকারী এবং সমিল মালিককে পাননি। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে আলাপ করে সরকারী উপযুক্ত অনুমতিপত্র ছাড়া গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেন এবং অনুমোদনহীন সমিলে থাকা সব কাঠ তালিকা করে নিলাম প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় চৌকিদার-দপাদার, ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ, থানা পুলিশ, স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানকে আহবান জানান।
এসময় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের এসআই সুদর্শন, ২নং ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল উদ্দিন, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার বশির আহমদ, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭জুন স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার ফরিদুল আলমের পুত্র ফোরকান মাহমুদ লোকজন নিয়ে এই সড়কের গাছ কাটতে গেলে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এই বিষয়ে হ্নীলা মৌলভী বাজার ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন গাজি জানান,সড়কের এই গাছ সমুহ থাকায় আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করে ছায়া-সুশীল পরিবেশে সময় পার করি। ইউএনও মহোদয় জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
সমিল মালিক আবু তাহের জানান,সড়কের গাছ গুলো কাটছে সাবেক মেম্বার ফরিদুল আলমের পুত্র ফোরকান মাহমুদ। আমার সমিলে অন্য যে গাছ রয়েছে তা সরকারী নিলাম ডাকের গাছ।

সাবেক মেম্বার পুত্র ফোরকান মাহমুদ জানান,২০০৯সালে আমার মরহুম পিতা ফরিদুল আলম মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদের সাথে চুক্তি করে এই সড়কে গাছ গুলো রোপন করে। বিভিন্ন সময় তুফানে এসব গাছ রাস্তার পাশর্^বর্তী বসত-ঘরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উপরোক্ত বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামানের নিকট আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যেহেতু চুক্তি হয়েছে তাই বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার বলে জানান। ঝড়-তুফানের কারণে এসব গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তার ক্ষতির পাশাপাশি অনেক পরিবারকে ক্ষতি-পুরণ দিতে হয়েছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের সাথে চুক্তি স্বাপেক্ষে বসত-বাড়ির সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ হতে যাওয়া গাছ সমুহ কাটছি। অন্যগাছ সমুহ রাস্তার শ্যামল ছায়ার জন্য থাকবে।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,এই সড়কের গাছ কাটা নিয়ে হৈ-ছৈ শুরু হলে আমি ফোরকানের সাথে কথা বলি। সে জানায় তার কাছে অনুমতি রয়েছে। তাই আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়নি।
ইউএনও মুহাম্মদ আদনান চৌধুরী জানান,আমার আমলে আমি কোন ধরনের গাছপালা কর্তন ও অবৈধ সমিল পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। বনজ সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এলাকার সাধারণ মানুষ এই সড়কের সবুজ-শ্যামল ও ছায়াময় রাখতে এই সড়ক বনায়ন রক্ষায় স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ####
