ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার ১৯ ঘন্টা পর কক্সবাজারে হোটেল থেকে নাইংক্ষ্যছড়ি আ.লীগ নেতার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

নাইক্ষ্যংছড়ি, সংবাদদাতা :

কক্সবাজার শহরের ‘হোটেল পালংক্যি’ থেকে মো. ইসমাইল মেহেদী (৪৮) নামে এক আওয়ামীলীগ নেতারা ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। রবিবার বিকাল ৩ টার দিকে হোটেলের ১০৭ নাম্বার রুম থেকে সিলিংফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজার ও বয়কে আটক করা হয়েছে।

নিহত ইসমাইল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মসজিদ পাড়া এলাকার গোলাম রসুল মোল্লার ছেলে এবং উপজেলার আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি পল্লী চিকিৎসকও।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি তদন্ত কামরুল আজম জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেয়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্তের পর হত্যা নাকি আত্মহত্যা বিষয়টা জানা যাবে।

সদর থানার এসআই দীপক কুমার সিং জানান, রুমের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ। কারেন্টের তারের মাধ্যমে গলায় ফাঁস লাগানো হয়েছে। শনিবার গভীররাতে গলায় ফাঁস লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এখনো বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

হোটেলের বরাত দিয়ে এসআই জানান, গত ২৮ এপ্রিল দুপুরের দিকে ব্যবসায়ীক কাজ দেখিয়ে তিনি ১০৭ নাম্বার রুমটি বুকিং করেন। এরপর নিয়মিত রুমে থাকতেন। ঘটনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজার মীর কাশের ও রুমবয় আব্দু শুক্কুরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে শনিবার রাত ৮ টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইসমাইল মেহেদী। স্ট্যাটাস দেয়ার ১৯ ঘন্টা পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো- “শফিউল্লাহ পাপ, অন্যায় করতে টাকা খরচ হয় তোমার নোংরামি তুমি বন্ধ করবে ? জানি, তুমি সংগঠনের চরম ক্ষতি করছো, তোমার মধ্যে দেশপ্রেম নেই, বাইশারির দুইজন সাংবাদিক জানে তুমি আমাকে হুমকি দিয়েছো, মনে রেখো নেতৃত্বে তুমি পাবেনা। তোমার পূর্ব পুরুষের ইতিহাস সবাই জানে। হুমকি দিয়ে লাভ নাই। কারন তুমি অবৈধ টাকার মালিক ৭১ এর চেতনা তোমার নাই। আমি গরীব হতে পারি নীতিহীন নই। তুমি মানুষের যত কষ্ট দেবে তার চেয়েও হাজার গুন তুমি কষ্ট পাবে। তোমার মতো মানুষ ছি: ছি: ছি: ওমরা করেছো হজ্ব করেছো ??? তুমি কাজি মুজিবসহ উপজেলার কিছু নেতা ষড়যন্ত্র করেছো ২০০৯ সালে। রহমান খাইরুল বাশারসহ সব অনেক নেতাকে তুমি লাঞ্চিত করেছো…….. তোমার ভিতর রুপ আর বাইরে এক নয় ? তওবা করে পাপ মোচনও তোমার পাপ মোচন হবে ? শাহজান নামে একজন তোমার সাথে আমাকে প্যানেল করতে বলছে কিন্তু সরি তোমার সাথে প্যানেল অসম্ভব। খাটি দেশি প্যানেল হও। আমি দোয়া করি। প্রিয় কাউন্সিলর ভাইয়েরা অংক করতে ভুল করবেনা প্লিজ।”

প্রসঙ্গ- শফিউল্লাহ গেলো কমিটির নাইংক্ষ্যছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিতে শফিউল্লাহ’র নাম নেই।
Coxs Pic1, 30-4-17