হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফের হ্নীলায় নির্মাণাধীন ঘরের মাটির দেওয়াল ধ্বসে ঘুমন্ত মা, ছেলে, স্কুল পড়–য়া মেয়েসহ ৪জন মৃত্যুবরণ করেছে। বিকালেই তাদের স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে প্রকৃত অর্থে ফকিরই হয়ে গেল বৃদ্ধ ফকির আহমদ।

স্থানীয়রা জানায়, ১৭নভেম্বর (শুক্রবার) রাতের প্রথম প্রহর ১টারদিকে উপজেলার হ্নীলা ইউপির ১নং ওয়ার্ড মরিচ্যাঘোনা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি টিলার উপর মৃত ঠান্ডা মিয়ার পুত্র ফকির আহমদ (৬৭) ঘরের মাটির দেওয়াল ধ্বসে চাপা পড়ে ফকির আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা (৫০), ছেলে শাহিদুল মোস্তফা (২০), আলী আকবর পাড়া সরকারী প্রাইমারী স্কুলের ৪র্থশ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে নিলুফা ইয়াছমিন (১৫) এবং সাদিয়া (১১) নিহত হয়েছে। এই ঘরের দেওয়াল ধ্বস দূঘর্টনার খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বশির আহমদ, মহিলা মেম্বার রাহামা আক্তার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিমসহ গণ্যমান্য লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি চাপা হতে মৃত অবস্থায় চাপা পড়াদের উদ্ধার করেন।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিম জানান, এই নৃশংস দূঘর্টনায় একই পরিবারের ৪জন নিহতের খবর পেয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ভোরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের উদ্ধার ও বিভিন্ন প্রশাসনকে অবহিত করার পর তাঁরই আর্থিক সহায়তায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টারদিকে আবারো চেয়ারম্যান, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, থানা পুলিশের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
বিকাল ৪টায় হ্নীলা মৌলভী বাজার কেন্দ্রীয় কবর স্থানে দেওয়াল চাপা পড়ে নিহত মা,ছেলে ও মেয়েদের জানাজা শেষে স্থানীয় মেম্বার বশির আহমদের তদারকিতে দাফন করা হয়। এরপর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে পিআইও মোহাম্মদ জুয়েল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সর্বহারা ফকির আহমদের সাথে কথা বলেন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কর্তা বৃদ্ধ ফকির আহমদের হাতে ১লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। এসময় হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড মেম্বার বশির আহমদ, মহিলা মেম্বার রাহামা আক্তার,১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল করিমসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,অসহায়-দরিদ্র বৃদ্ধ ফকির আহমদ পরিবারের ৪জনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। তাঁর মাথা গোঁজার জন্য একটি সরকারী অনুদানের ঘর দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে যারা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বনবিভাগ ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় মেম্বার বশির আহমদ জানান,মৃত ঠান্ডা মিয়ার পুত্র ফকির আহমদ নিতান্তই গরীব। পরিবারে স্ত্রী,ছেলে ও দুই মেয়েকে ঠাঁই দেওয়ার জন্য তিনি এই মাটির দেওয়াল ঘর নির্মাণ করছিলেন। কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে এই দেওয়ালের পাশেই পলিথিন দিয়ে ছাউনি করে রাত যাপন করছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় দেওয়াল ভেঙ্গে ঘুমন্ত নারী, ছেলে-মেয়েদের উপর পড়লে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব ফকির হয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।
এদিকে বৃষ্টিতে নির্মাণাধীন ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে একই পরিবারের মা, ছেলে ও দুই বোনসহ ৪জন নিহতের ঘটনায় পুরো উপজেলাসহ জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ###
