টেকনাফে কাল বৈশাখীর হানায় লবণ চাষাবাদ ব্যাহত

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, টেকনাফ।
বাংলা ১৪২৪ নববর্ষের বৈশাখের তপ্তরোধে অতিষ্ঠ টেকনাফের মানুষের মনে কিছুটা স্বস্থি এনেছে কাল বৈশাখীর হানা। তবে লবণ চাষী,ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
গত ২০এপ্রিল ভোররাত ৩টারদিকে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্থি নিয়ে ধমকা বাতাস,বজ্রসহ বৃষ্টি নিয়ে হানা দেয় কাল বৈশাখীর প্রথম ছোবল। এই বৈশাখী ছোবলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও চরম গরমে অতিষ্ট মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে। মৌসুমে এই কাল বৈশাখী বৃষ্টি পানি সংকট নিরসন,গাছপালার চাহিদা পুরণ করলেও পুরো উপজেলার লবণ চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ শ্রমিক,চাষী ও ব্যবসায়ীরা আবহাওয়া অনূকূল থাকার স্বপ্ন নিয়ে আশাতীত ফলনের আশায় লবণ চাষাবাদ শুরু করে। কিন্তু গত ১০মার্চ মাসের প্রবল বৃষ্টিতে লবণ চাষাবাদ প্রায় ৪/৫দিন পিছিয়ে যায়। আবারো গত ৩এপ্রিল হতে টানা কয়েকদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও দূর্যোগ আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় লবণ চাষাবাদ ব্যাহত হয়। গতকালের কাল বৈশাখীর ছোবল টেকনাফের লবণ চাষে ক্ষয়ক্ষতির বিরাট ধাক্কা বলে চাষাবাদে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেন। উল্লেগ্য গত ২০১৫-২০১৬ইং মৌসুমে জেলায় বিপূল পরিমাণ লবণ উৎপাদন করলেও টেকনাফে ২হাজার ৭শ একর জমিতে ৮৮হাজার ২শ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। তাই চলতি মৌসুমে উপজেলার সাবরাং,টেকনাফ সদর,হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে গত বছরের চেয়ে লবণের দাম বেশী পাওয়ার আশায় চাষীরা আরো বেশী লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিল। হঠাৎ ভারী বৃষ্টি,দূর্যোগ আবহাওয়া,কাল বৈশাখীর হানা লবণ চাষীদের মাথায় হাত দিতে হচ্ছে। তবুও আগামী ক‘দিনের মধ্যে কাল বৈশাখীর রেশ কাটলে ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে আবারো মাঠে নামবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ###