হুমায়ূন রশিদ : বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন পরিবেশ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের নেতৃত্বে ২০জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষসহ ২৭সদস্যের প্রতিনিধি দল সংক্ষিপ্ত সফর শেষে মিয়ানমার থেকে ফিরে এসেছে। এই সফরে শরণার্থী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কমিশনার সন্তোষ প্রকাশ করলেও রোহিঙ্গাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
৫মে (শুক্রবার) সকাল ৯টারদিকে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ২৪নং লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪জন, ২৬নং শালবাগান ক্যাম্পের ১৪জন এবং ২৭নং জাদিমোড়া ক্যাম্পের ২জনসহ মোট ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের মন্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সেখানে পৌঁছার পর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সাথে স্বাক্ষাত করে প্রত্যাবাসন পরিবেশ স্বরূপ রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরীকৃত শেল্টার সমুহ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিকেল সোয়া ৬টারদিকে দেশে ফিরে এসেছে।
মুলত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ প্রত্যাবাসন উপযোগী কি না, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণ করা শেল্টার পরিদর্শন এবং সে দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিকালে ফিরে এসে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সফরের বিস্তারিত জানান। তিনি এই পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন রোহিঙ্গা সদস্য সরাসরি আগে ফেলে আসা তাদের বসত-বাড়িতে অবস্থানের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে। কোন রোহিঙ্গাকে জোর করে প্রত্যাবাসন করা হবে না।
এদিকে চীনের কুটনৈতিক তৎপরতায় প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৫ মার্চ মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মংডু আঞ্চলিক পরিচালক অং মা ইউয়ের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তখন ৭দিনে ১৪৭টি পরিবারের প্রায় ৫শ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের তথ্য যাচাই শেষে স্বদেশ ফিরে যান। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের যাছাই-বাছাই করা ১হাজার ১শ ৭৬জন রোহিঙ্গাকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় স্বদেশ প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭সালের ২৫আগস্ট মিয়ানমারে সেনা অভিযান এবং রাখাইন প্রদেশে গণহত্যায় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী,শিশু,পুরুষ ও বৃদ্ধ প্রাণ রক্ষার্থে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এরপর ২০১৮সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ১ম সময় সীমা ঠিক হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে দাবী করায় সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ২০১৯সালের ২২আগস্ট বাংলাদেশ ২য় বারের মতো প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। ৩য় বারের মতো বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্বদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ###
