নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে দোকানঘর নিয়ে বিরোধ জেরে মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম ও হাতের তিনটি আঙুল বিছিন্ন হবার ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলায় পুলিশ এজাহারনামীয় একজন আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এতে আসামিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নিতে এখন মামলার বাদি ও তার পরিবার সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি পাল্টা মামলায় জড়িয়ে আহত মা-মেয়ের পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থার কারণে বাদির পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা সাহারবিল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, গত ২ জানুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশে দোকানঘর দখলে নিতে হামলা চালায় স্থানীয় একটি কতিপয় দখলবাজ চক্র। এসময় খবর পেয়ে বাঁধা দিতে গিলে হামলাকারীরা আমার স্ত্রী রাশেদা বেগমকে (৫৭) কুপিয়ে জখম করে। এতে তার ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল বিছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার সময় মাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে আমার মেয়ে জোসনা আক্তার (১৮)। এসময় সন্ত্রাসীরা আমার মেয়েকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
আহত রাশেদা বেগমের স্বামী আবুল হোসেন জানান, এলাকায় ক্রয়কৃত খতিয়ানী জায়গাতে বেশ কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ করছি । ইতোমধ্যে দোকানের দুটি কক্ষের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্য আরেকটি দোকান ঘর তৈরীর সময় স্থানীয় দখলবাজ সাইফুল্লাহ নুরী জায়গাটি তার বলে দাবী করে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোসেনকে জানানোর পর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ভূমিদস্যুরা। এরপর থেকে দোকানঘরটি কয়েকবার দখলের চেষ্ঠা চালায়। এতে নিরুপায় হয়ে আমি গত ২৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি এমআর মামলা দায়ের করি। এরপর আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, গত ২ জানুয়ারি ঘটনারদিন একটি কাজে কক্সবাজারে অবস্থান করি। ওইদিন বিকালে আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ না করতে ঘটনাস্থলে এসে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবী হোছাইন চৌধুরী আমার পরিবার সদস্যদের বারণ করেন। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে ইউপি চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন অভিযু্ক্ত ভূমিদস্যুরা। এসময় সাইফুল্লাহ নুরীর নেতৃত্বে সহযোগী দুবৃর্ত্ত মিজানুর রহমান, নুরুচ্ছফার নেতৃত্বে ১০-১২ জন অস্ত্রধারী হামলা চালিয়ে দোকানঘরটির দেওয়াল গুড়িয়ে দেন।
আবুল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় তাদের ধারালো কিরিচের আঘাতে আমার স্ত্রীর হাতের তিনটি আঙুল বিছিন্ন হয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় পরিবার সদস্যরা আমার স্ত্রী আহত রাশেদা বেগম ও আমার মেয়ে জোসনা আক্তারকে মারাত্মক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা হলেও আমার স্ত্রীর হাতটি এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
এব্যাপারে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবী হোসেন বলেন, জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুইপক্ষে বিরোধ চলছিলো। বিষয়টি তার পরিষদে বিচারাধীন রয়েছে। আবুল হোসেন তার জায়গা দাবী করে আদালতে একটি মামলাও করেছেন। ওই মামলায় জায়গার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ঘটনার পর চকরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত নুরুচ্ছফা নামে একজনকে আটক করে পুলিশ ইতোমধ্যে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এরপর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নিতে এখন আমাকে এবং আমার পরিবার সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি পাল্টা মামলায় জড়িয়ে আমার পরিবার সদস্যদের হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থার কারণে বর্তমানে আমার পরিবার সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারে চকরিয়া থানা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ##
