বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের লেদা ২৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রেমিক জুটির কথা বলার সময় ক্যাম্পের স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ার পর দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় কথা কাটাকাটি এবং সংঘর্ষের জেরধরে ছুরিকাঘাতে প্রেমিকার চাচা নিহত ও প্রেমিকের ভাবী রক্তাক্ত হয়েছে।
গত ৩০ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টারদিকে লেদা ২৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-সি (এলএমএস) ১৭২নং রোমের বাসিন্দা কালা মিয়া প্রকাশ বাইলার পুত্র শওকত উল্লাহ (১৮) এবং একই ব্লকের ১০৮নং রোমের বাসিন্দা আবুল ফয়েজ লুলুর মেয়ে শাহানা আক্তার (১৮) প্রেমের সুত্রধরে দুজনে একটি ল্যাট্রিনের ভেতরে কথা বলার সময় ক্যাম্পের লোকজন দেখতে পায়। তখন তা নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লাঠি-সোটা দা নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। এতে শওকত উল্লাহর ভাবী একই ক্যাম্পের ১২৪নং রোমের বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াছের স্ত্রী মমতাজ বেগম (২৭) এর আঙ্গুল কেটে রক্তাক্ত হয়। এসময় আরো ২/৩জন আহত হলে প্রতিবেশীরা এসে তাদের সংঘর্ষ বন্ধ করে। আহত মমতাজ টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে প্রেমিক জুটিকে সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা চেষ্টা চালায়।
৩১ডিসেম্বর সকাল ৮টারদিকে প্রেমিক জুটির অভিসারের বিষয় নিয়ে আবারো কথা কাটাকাটি হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় প্রেমিক শওকত উল্লাহ পক্ষের নজির আহমদের পুত্র কালা মিয়া প্রকাশ বাইলা, কালা মিয়া প্রকাশ বাইলার পুত্র শওকত উল্লাহ, আলতাজ উল্লাহ, এনায়েত উল্লাহ, শহিদ উল্লাহ, কালা মিয়ার বোন জামাই নুর আলম, মৃত আমিনুল হকের পুত্র শেখ আহমদ এবং জনৈক নুর আলমসহ একটি গ্রুপ আবুল ফয়েজ লুলু গ্রুপের উপর হামলা করতে গেলে ক্যাম্পের একই ব্লকের হাকিম আলীর পুত্র জোবায়ের (৩৫) ওরফে বন্দরের শ্রমিক জুবায়ের মাঝি উভয়পক্ষকে বাঁধা দিতে যায়। এসময় বাইল্যার পুত্র এনায়েত উল্লাহর ছুরিকাঘাতে জুবায়ের মাঝি ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় ক্যাম্প হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে বাদে জুমা একদল পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে স্থানীয় বøক মাঝি ফয়েজ জানান, প্রেমিক জুটি গোপনে কথা বলার বিষয় নিয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষে মমতাজ নামে মহিলা রক্তাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি আমরা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তায় সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম। সকালে আবারো দুপক্ষের কথা কাটাকাটি নিয়ে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে জুবায়ের মারা যায়।
লেদা ২৪নং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোঃ আলম বলেন,রাতে প্রেমিক জুটি কথা বলার সময় আটক ও সংঘর্ষের কথা আমাকে কেউ জানায়নি। সকালে উক্ত বিষয় নিয়ে আবারো সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে জুবায়ের মাঝি ছুরিকাঘাত হয় এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। ###
