নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে কৌশলে বেড়াতে এনে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নিয়ে একদল দূবৃর্ত্ত লোহার রড ও হাতুঁড়ি পেটা করে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত নামীয় আসামীদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। মামলার বাদীপক্ষ তথা নিহতের পরিবারের দাবী এই মামলা নিয়ে কোন ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য ও নিরীহ লোকজন যেন হয়রানির সম্মুখীন না হয়। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রæত সনাক্ত করে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে নৃশংস হত্যাকান্ডের সুবিচার দাবী করেন ভোক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়,লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পালবাড়ির হাসিবুর রহমানের সংসারে ৫ছেলে ২মেয়ের মধ্যে হুমায়ূন রশিদ ওরফে সুমন (৩৬) সবার ছোট। অন্যান্য ভাই-বোনেরা স্ব স্ব ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হলেও সামর্থ্যবান পিতার ছেলে হওয়ায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করত। এরই মধ্যে চাঁদপুরের ফাতেমা আক্তার লিপি নামে ৪ মেয়ের জননী মুঠোফোন যোগাযোগের মাধ্যমে হুমায়ূন রশিদ সুমনের সাথে পরিচয় গোপন করে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করে। তাদের সংসারে দেড় বছরের ১টি মেয়ে রয়েছে। পরে তা ফাঁস হওয়ার পর কক্সবাজারের কোন এক এলাকায় চাকরীর সুবাদে ময়মনসিংহের জনৈক ব্যক্তির বৈবাহিক সুত্রধরে শাহেনা আক্তার মিথিলা নামে এক মহিলার সাথে পরিচয় ঘটে। সে কখনো ময়মনসিংহে, কখনো সিলেটে, কখনো লক্ষীপুর আবার কখনো কক্সবাজারে অবস্থান করতো। এরই মধ্যে হুমায়ূনের সাথে মিথিলার পরিচয় থেকে বিবাহ হয়। তাদের সেই সংসারের ৩মাসের ১টি ছেলে রয়েছে। এরই মধ্যে পরিবারের অজান্তে টেকনাফের হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা এলাকার চিহ্নিত এক মাদক কারবারীর বাসায় তাদের আসা-যাওয়ার পর মাদক কারবারে সম্পৃক্ত হয়ে উঠে। এখানকার মাদক কারবারীরা চরণদারের মাধ্যমে মাদকের চালান প্রেরণ করত আবার মাঝে-মধ্যে তারা নিজেরাই এসে মাদকের চালান নিয়ে যেত। নিরবে মাদক কারবার চলাকালীন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে হুমায়ূন ১টি গাঁজার মামলায় আটক হয়ে কারাবরণ করে। এই ঘটনার পর তার পরিবারের লোকজন তাকে বিদেশ প্রেরণের জন্য পাসপোর্ট তৈরী করে দেন। কিন্তু দুই স্ত্রীর বাঁধার মুখে সে বিদেশ যেতে পারেনি। ২য় স্ত্রী সিলেটে বেড়ানোর কথা বলে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির ৩লাখ টাকা নিয়ে সিলেট যাওয়ার কথা বলে জনৈক সঙ্গী জহিরুল ইসলামসহ টেকনাফের হ্নীলা ষ্টেশনে চলে আসে। ২য় স্ত্রী মিথিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটনের পাশাপাশি হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা এলাকার সংঘবদ্ধ মাদক কারবারী সিন্ডিকেট এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের মুখোশ উম্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করছে সুশীল সমাজ।
৯ডিসেম্বর বিকালে নুরুল আলমের পুত্র ইব্রাহীম এবং জাফর হোসেনের পুত্র রাসেলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ তাদের রিসিভ করে হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। তখন ইব্রাহীমের নেতৃত্বে দূবৃর্ত্ত গ্রুপটি তার হাতে থাকা ৩লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ২য় স্ত্রী মিথিলার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বিকাশে আরো ৫০হাজার টাকা গ্রহণ করে। এরপর বড়বিল সংলগ্ন পাহাড়ে নিয়ে মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সক্রিয় স্বশস্ত্র গ্রুপটি লোহার রড ও হাতুঁড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে খুন এবং এঞ্জু মিয়ার পুত্র জহিরুল ইসলাম (৩৭) কে গুরুতর আহত করে ফেলে চলে যায়। এসময় ঘাতক দলের কয়েকজন হুমায়ূনের পানি চাওয়ার আকুতি আর মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে দূবৃর্ত্ত দলের কয়েকজন সদস্য কম্বনের হাবিবুর রহমানের পাহাড়ে বসবাসরত মোস্তাকের পুত্র জয়নালের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর স্থানীয় লেঅকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই অলি আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ ও আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া জহিরুল ইসলাম খুনী চক্রের কয়েকজন সদস্য এবং মাদক কারবারী গডফাদারের নাম বললেও মোটাংকের বিনিময়ে কৌশলে মামলা থেকে পার পেয়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত হুমায়ুনের ভাই আব্দুর রহিম বাদী হয়ে টেকনাফ থানার মামলা নং-২২,তারিখ-১০-১২-২০২২ইং দায়ের করে। এতে নামীয় হ্নীলা মরিচ্যাঘোনার নুর আলমের পুত্র ইব্রাহীম (২২), জাফর হোসনের পুত্র রাসেল (২২), রায়হান (২০), ভুলু মিয়া ওরফে লম্বা ভূলু, মৃত কবিরের পুত্র রহমান (৩২), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাচার পাড়ার শাহজাহানের পুত্র রাকিব (২৩) ও পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার জনৈক রবিন (২২) নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা দায়ের হওয়ার পর নামীয় আসামীদের অনেকে এই হত্যা মামলা থেকে বাঁচার জন্য মোটাংকের টাকার বিনিময়ে কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে তদবির চালাচ্ছে গুঞ্জন উঠেছে।
উক্ত এলাকার স্থানীয় ইউপি মেম্বার বশির আহমদ জানান, প্রকাশ্য দিন-দুপুরে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডে জড়িত চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অলি আহমদের নিকট জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি এই মামলার বিষয়ে কথা বলতে সম্মত হয়নি।
নিহত হুমায়ূনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার বাদী জানান, এই নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া উক্ত মামলা নিয়ে কোন ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য এবং নিরীহ সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহবান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুরো উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ বাণিজ্য, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং খুনোখুনির ঘটনায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তা প্রতিরোধে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্থি ফিরে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানানো হয়েছে। ###
