নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে জুয়াড়ি ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় উল্টো ইউপি মেম্বার এনামুল হককে জড়িয়ে হয়রাণি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বিকালে স্থানীয় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরা এ অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবাদ সভা থেকে জনপ্রতিনিধিরা স¤প্রতিসময়ে জুয়া খেলা অবস্থা থেকে পুলিশ দেখে পালিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মারা যাওয়া যুবক শফি আলমের মৃত্যুর ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের কাছে আহবান জানিয়েছেন।
পরিষদে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, চকরিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্বান্ত মোতাবেক এলাকার সকলধরণের অপরাধ প্রবণতা নির্মুলে পরিষদের সদস্যরা (ইউপি মেম্বার) পুলিশকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। অনুরূপভাবে গত শুক্রবার রাত একটার দিকে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশদল কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ছোট ভেওলা এলাকায় জুয়াড়িদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, অভিযানের আগমুর্হুতে এএসআই নাছির উদ্দিন মোবাইল ফোনে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার এনামুল হককে জুয়াড়িদের আস্তানা এলাকায় আসতে বলেন। ফোন পেয়ে মেম্বার এনামুল হক প্রতিবেশি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর পুলিশ সামনে অগ্রসর হতে থাকলে টের পেয়ে জুয়াড়িরা দিকবিদিক পালাতে শুরু করে। এসময় তিনজন পালিয়ে পাশের মাতামুহুরী নদীতে ঝাঁপ দেন, একজন লুকিয়ে থাকে নিকটস্থ আখক্ষেতে আর অপর দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, অভিযানের সময় আখক্ষেতে লুকিয়ে থাকা কুতুব উদ্দিন নামের যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে উপস্থিত ইউপি মেম্বার এনামুল হকের মধ্যস্থতায় তাকে পুলিশের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তিনজনের মধ্যে দুইজন তীরে উঠে আসলেও শফি আলম নামের ওই যুবক পানিতে ডুবে যায়।
প্রতিবাদ সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদের মেম্বাররা দাবি করেন, রোববার ২৮ আগস্ট ভোরে মাতামুহুরী নদীর কইন্যাকুম এলাকা থেকে যুবক শফি আলমের মরদেহ স্বাভাবিকভাবে উদ্ধার করেন এলাকাবাসি। ওইসময় তাঁর গলায় কোন ধরণের রশি বাঁধা ছিলনা। কিন্তু এলাকার কতিপয় মহল ইর্ষাণিত হয়ে মেম্বার এনামুল হককে ফাঁসানোর মাধ্যমে হয়রাণির করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মরদেহের গলায় একটি নতুন রশি লাগিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্ঠা চালিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বলেন, মেম্বার এনামুল হক একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি। তিনি জনগনের জন্য আজীবন কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্র“তিতে তিনি কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড থেকে টানা পাঁচবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দুইবার পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দাবি, মুলত ইউপি মেম্বার এনামুল হকের জনপ্রিয়তাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাড়িঁয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশহিসেবে এলাকার কতিপয় মহল জুয়াড়ি ধরতে পুলিশকে সহায়তা দেয়ায় উল্টো ইউপি মেম্বার এনামুল হককে মামলায় জড়িয়ে হয়রাণির মিশনে নেমেছে। অদুর ভবিষ্যতে এইধরণের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিরা উল্টো হয়রাণির শিকার হলে কেউ এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে অপরাধপ্রবণতা রুখতে এগিয়ে আসবেনা।
প্রতিবাদ সভা থেকে জনপ্রতিনিধিরা কৈয়ারবিলের যুবক শফি আলমের অপমৃত্যুর ঘটনায় পরিষদের মেম্বার ন্যায় বিচারক এনামুল হককে জড়ানোর তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের কাছে আহবান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন। এসময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারমান মোহাম্মদ ইলিয়াছ, নারী মেম্বার শিরিন ফরহাদ, রোকসানা পারভীন মুন্নি, ইউপি মেম্বার রিদুয়ানুল হক, মেম্বার আক্তার আহমদ, মেম্বার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। ##
