বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রশাসনিক ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদক বিরোধী অভিযান কিছুটা শিথিল হয়ে যাওয়ায় কৌশল পরিবর্তন করে হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া, উলুচামরী, ছোট লেচুয়াপ্রাং এবং মইন্যারজুম এলাকার চিহ্নিত কিছু বখাটে এবং রাখাল কৌশল পরিবর্তন করে এখন জমজমাটভাবে ইয়াবা বেচা-বিক্রি করে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাই এসব বেপরোয়া স্থানীয় মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগে জানা যায়, হ্নীলা ঊলুচামরীর মৃত জাফর আলমের পুত্র হেলাল উদ্দিন ওরফে নাক কাটা কালাবদা, অলি আহমদের পুত্র এরশাদুল্লাহসহ ৭/৮ জনের একটি গ্রæপ বিভিন্ন এলাকা হতে ইয়াবার চালান বহনের জন্য ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে আগতদের পানখালী আতœীয়-স্কজনের বাড়ি এবং পাহাড়ি টিলায় নির্মিত বাসায় ৪/৫দিন রাখার পর ইয়াবা বড়ি খাওয়ায়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পাচার করে আসছে। এছাড়া জসিম ও জয়নাল নামে আরো দুই যুবক কৌশল খাটিয়ে তৎপর রয়েছে বলে জানান।
তারা এসব ইয়াবার চালান কৌশলের সংগ্রহের পর গরু-মহিষ চরানোর সময় কৌশলে প্লাস্টিকের প্যাকেটজাত করে তৈরী করে। পরে তা বহনকারীদের খাইয়ে গন্তব্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া এসব চক্রের সদস্যদের উশৃংখল চলাফেরা এবং অনেকে মাদক সেবন করে এলাকায় মাতলামি করে বেড়ায়। তাদের এই আচরণে গ্রামের ভাল মানুষ জনসহ মহিলারা চলাফেরা করতে পারছেনা বলে একাধিক সুত্রের দাবী। ইয়াবা কারবারীদের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে কেউ নাম প্রকাশ করে প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারছেনা বলে ভূক্তভোগীরা দাবী করেন।
স্থানীয় একাধিক এই বিষয়ে কালাবদাকে নিষেধ করে উল্টো উপহাস করে বলে এলাকার মানুষ সব মরে গেলে আরো ভাল। বার্মাইয়ারা মাল এনে দিবে আর আমি বেচে আরামে থাকতাম। তার এই ধরনের আচরণে এই ইয়াবা কারবারীর খুঁটির জোর কোথায় বলে প্রশ্নই উঠে?
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কালাবদার নিকট জানতে চাইলে বলেন, আমি গরু চরাইয়া চলি। এখন আই ইন নগরি। মাইনষ্যে দুশমনি গরেরদ্দে হড়ে যাইতাম।
এরশাদুল্লাহ বলেন,আমি এসব কাজে জড়িত নই। আগেও ষড়যন্ত্র করে আরে ইয়াবা মামলায় জেল খাড়াইয়্যে।
এছাড়া মইন্যার জুমের ৮/১০জনের ইয়াবা কারবারীদের অপতৎপরতায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবী তারা দীর্ঘদিন যাবত এই অপকর্ম চালিয়ে আসলেও কোন রহস্যজনক কারণে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে প্রশ্ন ছুঁড়েন?
এই ব্যাপারে হ্নীলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, চলমান করোনায় মাদক কারবারীদের সুসময় চলছে। তাদের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বিপদগামী হচ্ছে। এই চক্রের সদস্যদের কারণে গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মহিলা ও যুবতিরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। তাই তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা দরকার।
এলাকাবাসীর দাবী,এখনো কৌশল অবলম্বন করে এবং বিভিন্ন মুখোশের ছত্র-ছায়ায় সক্রিয় থাকা মাদক কারবারীদের সনাক্ত করে দ্রæত আইনের আওতায় আনা একান্ত দরকার। ###
