২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

একাত্তরের ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে তার সম্মতির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা চালানোর পর এখন পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য দিয়ে বই ছাপিয়ে তাদের কৃতকর্ম উল্টো মুক্তিবাহিনীর ওপর চাপানোর চষ্টো করছে। এ নিয়ে মিথ্যাচার সম্বলিত বই ছাপিয়ে তা আবার বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর দুঃসাহস পাকিস্তান পায় কীভাবে?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাই। দেশের পক্ষ থেকে দ্রুতই পাকিস্তানের কাছে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাব।’

পাশাপাশি দেশবাসীকেও পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারা পরাজিত শক্তিদের মদদ দিচ্ছে তাদের সম্পর্কেও দেশের জনগনকে জানা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যেভাবে একাত্তরে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিদেশী প্রভূদের (পাকিস্তান) সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তারই প্রতিফলন হচ্ছে মিথ্যাচার করে বই ছাপিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর দুঃসাহস।

অধিবেশনের শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টির সূত্রপাত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, আইএসআই’র মদদে পাকিস্তানের জুনায়েদ আহমেদের লেখা ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ : মিথস এক্সপ্লোডেড’ বইতে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক এদেশের গণহত্যাকে মুক্তিবাহিনীর হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখানোর চষ্টো করেছে।

বইটি সংসদে দেখিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি জানান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে ওই বইয়ের লেখার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে সভাপতির আসনে থাকা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই একজন এমপি সংসদ সচিবালয়ে একটি নোটিশ জমা দিয়েছেন। ওই নোটিশ এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী তা গ্রহণ করে অগ্নিঝরা মার্চের যে কোনো একটি দিনে এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।