ছৈয়দ করিম রনি,হ্নীলা :- সীমান্ত সড়ক নির্মাণ ও স্লুইচ গেইট সংস্কার প্রকল্পের আওতায় হ্নীলা ১নং স্লুইচ গেইট সংস্কার এবং বর্ষাকালে খালের পানি প্রবাহ নিয়ে ভাঙ্গনের আশংকা ও ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,বর্ষাকালে প্রবল ভারীবর্ষণে বিশাল এলাকার পানির চাপে হ্নীলা কাস্টম্স ঘাট এলাকা, সুলিশ পাড়া, হোয়াব্রাংয়ের ৫শতাধিক পরিবার পানিয়ে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিগণ বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন স্লুইচটি ভেঙ্গে একটু দক্ষিণ পাশে সরিয়ে গত বছর হতে সংস্কার কাজ শুরু হয়ে এখন শেষের পথে। বর্ষাকালে পানি প্রবাহের বিশাল চাপ এবং খালের দুপাশে বসবাসরত জনসাধারণ এখন খাল ও স্লুইচ গেইটের গতি পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙ্গন আর ভোগান্তির আশংকায় রয়েছে। তাই বর্ষাকাল শুরুর পূর্বে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোছন আলী জানান,আগের স্লুইচ সরিয়ে নেওয়া হলেও খালের গতি পরিবর্তন হয়নি। সংস্কারকারী কর্তৃপক্ষ খালী অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দায় সারলেও টেকসইভাবে কাজ না হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় পানির চাপে ভেসে গিয়ে ভাঙ্গনের শিকার হবে। তাই স্লুইচ গেইটের ব্লক বসানো অংশ হতে খালের উত্তর কিনারা পর্যন্ত টেকসইভাবে ভরাট করার দাবী জানান। এছাড়া স্লুইশ গেইটের সামনে এক রোহিঙ্গা পরিবারের বসতি পানি প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্থ করবে। তাই এই ঘরটি উচ্ছেদ করার দাবী উঠেছে।

উত্তর কিনারের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক জানান,স্লুইচ গেইটের স্থান পরিবর্তন হওয়ায় বর্ষাকালে পানির প্রবল চাপে আমাদের বসত-বাড়ি ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে। তাই সময় থাকতে গাইডওয়াল নির্মাণ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হ্নীলা ইউপির ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, পানির চলাচলে খালের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবীটি যৌক্তিক। আমি সরকারের উর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
হ্নীলা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় মানুষের কথা-বার্তা শুনেছি। আসন্ন বর্ষার পূর্বে জনদুর্ভোগ এড়াতে তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের আওতায় স্লুইচ সংস্কার ঠিকাদারের ম্যানেজার রিপন মিয়া জানান, আমরা আমাদের নিয়মে কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি। এছাড়া আমাদের করনীয় কিছু নেই তবে স্থানীয় লোকজনের দাবীর বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এক্সিয়েনের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প বাসবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
স্লুইট গেইট নির্ভর স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী,আসন্ন বর্ষায় জনদূর্ভোগ এড়াতে বিষয়ে গুরুত্বের সাথে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলের আন্তরিক সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ###
