হ্নীলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে বিনামূল্যে নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

নূরুল হোছাইন ভূট্টো : হ্নীলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জম্মদান না বলা এবং নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জম্মদান করার আন্দোলন শুরু করেছেন ।
গত ২৯-১২-২০১৯ ইং তারিখ ১টা ২৫ মিনিটের সময় হ্নীলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেন আয়েশা আক্তার ৩৫, স্বামিঃ মৌলভী মোহাম্মাদ ইউনুছ গ্রামঃ পশ্চিম সিকদার পাড়া, হ্নীলা, টেকনাফ। বর্তমানে ছেলে বাচ্ছা ও মা সুুস্থ্য আছে।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নরমাল ডেলিভারি সেন্টার হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ শংকর চন্দ্র দেবনাথের সার্বিক তত্বাবধানে, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ আজাদ মোহাম্মমদ নুুরুল হোসাইনের একান্ত প্রচেষ্টায়,আরটিএম বিনামূল্যে ডেলিভারি সেবা ও ঔষধ প্রদান করেন।

উক্ত কেন্দ্রের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ শংকর চন্দ্র দেবনাথ জানান, গ্রামাঞ্চলে মনোরম পরিবেশে,আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ডেলিভারি সেন্টারে বিনা মূল্যে সেবা প্রদানের দৃষ্টান্ত বিরল।
তিনি আরো বলেন মহিলারা সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েছে। অন্যদিকে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করলে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই সিজার মুক্ত এলাকা করাই তার মূল লক্ষ্য।

নরমাল ডেলিভারির সময় সহযোগীতা করেন এবং যাদের মাধ্যমে ডেলিভারী সম্মপন্ন করেন, Fwv নূছরাত জাহান (খুকি) , সহোযোগিতায় ছিলেন, Rtmi এর মিডওয়াইফ মনি আক্তার (মনি), আয়া হাসিনা বেগম, খুর্শিদা বেগম, নাইট গার্ড শামশুল উদ্দিন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগসুত্রে জানা যায়, ১৯৬০ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে গর্ভবর্তী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হ্নীলা ইউনয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

কিন্তুু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, এদেশের মানুষ শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আজ থেকে শুরু হলো নীলা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ডেলিভারি কার্যক্রম 24 ঘন্টা খোলা থাকবে যোগাযোগ নাম্বার 01775468849~ 01855862859। গর্ভবতী মহিলাদের নরমাল ডেলিভারির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আরটিএম। সেই থেকে প্রতি দিন গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসব করে। সন্তান প্রসবকালী শিশুদের জন্য রয়েছে ছ্যাকনী। রক্তক্ষনে মাতৃ মৃত্যু প্রতিরোধে মিশোপোষ্টল ট্যাবলেট, আইভি স্যালাইনসহ সন্তান প্রসবের আধুনিক যন্ত্রাংশ। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে ফ্লোরম্যাট, নাগরিক সুবিধার সিটিজেন চার্ট, রয়েছে। এখানে গর্ভবতী মায়ের চেক আপ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জোড়ালো ভূমিকা পালন করছে।
দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ আজাদ মোহাম্মমদ নুুরুল হোসাইন জানান, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে গর্ভবর্তী মায়ের চেআপ, ডেলিভারীসহ স্বাস্থ্য সেবায়, দসেন্টারের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা, সেবার ধরন এবং চিকিৎসা পদ্ধতির মান সন্তোষজনক। কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়া এখন থেকে এই হাসপাতালে যে কেউ চাইলেই ব্যথামুক্ত সন্তান প্রসবের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে সম্প্রতি নতুন এই সেবা চালু করা হয়েছে। নতুন এই সেবা পেয়ে রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা অত্যন্ত খুশি। সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হাসপাতালের ডাক্তার নার্সরাও। এই সপ্তাহে ১টি ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে । এমনিতেই পলিসিই হলো স্বাভাবিক ডেলিভারিকে উৎসাহিত করা।
গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই নির্বিচারে সিজারিয়ান অপারেশনের অভিযোগ যখন অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে জোরালো, ঠিক তখনই এই কেন্দ্রে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারির নতুন যুগের সূচনা হয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে। নতুন এই সেবায় ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা এবং রীতিমত স্বাভাবিক গর্ভবতি চেকাপ নিয়মিত হচ্ছে ।
তিনি আরো বলেন, ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারির জন্য বাচ্চা গর্ভধারণের পর থেকে আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা জরুরি। আমারা নিয়মিত চেকআপ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গর্ভের বাচ্চার অবস্থান লক্ষ করি। যদি সব কিছুু স্বাভাবিক থাকে তাহলে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি সম্ভব।
প্রসূতি মায়েদের এখানে বিশেষ যত্ন নিবিড় সেবাদানের কারণে অনেকের কাছে সাস্থ্য কেন্দ্রটি বিশেষ আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠছে এবং দিনদিন রোগীর ভিড় বাড়ছে।