বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলায় ইয়াবার কারিশমায় পুরাতন জমিদারদের হার মানানো আয়োজনে এক রাখালের রাজকীয় বিয়ে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ফেরারী ইয়াবা গডফাদারদের বিনোদনের জন্য যেকোন মূল্যে আয়োজন করা হচ্ছে আঞ্চলিক গান ও নাচের বিশেষ আয়োজন। একদিকে আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামী বক্তা আল্লামা তারিক মনোয়ারের ওয়াজের বিপরীতে ইয়াবা কারবারীদের মনোরঞ্জনের জন্য বেহায়াপনার আয়োজন মানুষের মনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই আয়োজন বন্ধ নাহলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়,ক‘দিন আগেও হ্নীলা ছোট লেচুয়াপ্রাং এলাকার মৃত জমির উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম ওরফে বঙ্গ অপরের বাড়িতে রাখাল থেকে এবং অপরের জমি বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তার সংসারে শফিউল আলম কালু, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আলম নামে ৩জন ছেলের আগমন ঘটে। ১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ২য় বিয়ে করেন। এখন তার সংসারে নতুন করে সিফাত-রিফাত ও এক মেয়েসহ ৬জন ছেলে-মেয়ে। তার বড় ছেলে শফিউল আলম কালু সংসার চালাতে বাপের সাথে অপরের বাড়িতে রাখাল হিসেবে কাজ করত। এরই ফাঁকে খারাপ লোকের স্পর্শে গিয়ে মাদকাসক্ত হয়ে উঠে কালু। এরই মধ্যে এলাকায় ইয়াবা পাচার শুরু হলে বাবার কুড়ে ঘরে থেকে কালু, খোরশেদ, মোঃ আলম ইয়াবার চালান বহনে লিপ্ত হয়। কিছু নগদ টাকা হাতে আসার পর ৩ ভাই খুচরা ইয়াবা বিক্রি শুরু করে। মানুষের চোখে দারিদ্রতার সুযোগে ৩ ভাই হয়ে উঠে বিদেশ পালিয়ে যাওয়া ইয়াবা কারবারী মোঃ জলিলের পুত্র ইসমাঈলের স্ত্রী ইয়াবা গডমাদার রেহেনার ইয়াবা পার্টনার। ঐ রেহেনা ঝিমংখালী বাপের বাড়ি ও পাশর্^বর্তী এলাকা হতে ইয়াবার চালান এনে মওজুদ করে। স্থানীয় মাদক কারবারীদের নিকট সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটে লোক এনে খাইয়ে এবং বিভিন্ন স্পশঁকাতর অঙ্গে নিয়ে পাচার করে নগদ টাকার মালিক বনে যান। ঐ মাদক কারবারী রেহেনার ভাই ইয়াবা সেবন, বহন, বিক্রি ও পাচারের জন্য দক্ষ বিধায় ঝিমংখালী থেকে লেচুয়াপ্রাং নিয়ে আসে। এদের কারণে কাঠুরিয়া নাক কাঁটা কালাবদাসহ অনেকে ইয়াবার ছোঁয়ায় লাখপতি হয়ে এলাকার শৃংখলা ভেঙ্গে মাদক কারবারী ও মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত করে। এদিকে সম্প্রতি পুলিশের সাথে বন্দুক মইন্যারজুম এলাকার আনোয়ারের পুত্র বাবুইল্যা হত্যা মামলায় আসামী হওয়ার পর রেহেনা আতœগোপনে থাকলেও তার এই অপকর্মের ব্যবসা সচল রাখার জন্য এই রেহেনার নিকটাতœীয়ের মেয়েকে কালু সাথে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রচেষ্টাই এই বিয়ের আয়োজন চুড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসে। ১লা নভেম্বর তাদের বিয়ে অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে ছেলের বিয়ে নিয়ে গরীব-দরিদ্র রাখাল পিতা মহাটেনশনে থাকলেও হঠাৎ করে ছেলের এই আয়োজন দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ে। টাকা-পয়সা কোথায় পেলে জানতে চাইলে উত্তর দেয় পাশর্^বর্তী লোকদের সহায়তায় বিয়ের এই আয়োজন। ৩১অক্টোবর রাতেই রাখাল ঘরের এই বিয়ের আয়োজন দেখে এলাকাবাসী হতবাঁক হয়ে পড়ে। দেড়লক্ষ টাকায় হ্নীলার পুরাতন জমিদারদের হার মানানো ডেকুরেশনে রাজকীয় গেইট, খাবার প্যান্ডেল, বরের আসর প্রভৃতি চোখ ধাঁধানো। এলাকাবাসীর প্রশ্ন ইয়াবার কাঁচা টাকা না হলে এই রাখালের ঘরে এত বড় আয়োজন সম্ভব না।
অন্য একটি সুত্রের দাবী, চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আইন-শৃংখলা বাহিনীর চাপে ফেরারী হয়ে থাকা ইয়াবা কারবারীরা এই নিরাপদ জোনে দীর্ঘদিন পর হলেও একটু বিনোদনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে মোটাংকের টাকা ডোনেট করে শিল্পী রূপসী, সোনিয়া,পারভেজসহ ৫/৬ জনকে চুক্তিতে এনে আঞ্চলিক গানের আসর, উলঙ্গ নৃত্য এবং মাদক সেবন করে মাতলামির আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এই অনুষ্ঠান শুরু হলে শিল্পীদের শ্লীলতাহানি, অপহরণ, মারামারীসহ আইন-শৃংখলা অবনতিমুলক কাজ হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
ওদিকে একই দিন বিকাল হতে টেকনাফ নতুন পল্লান পাড়ায় ইসলামী ছাত্র কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন ও ইসলামী গবেষক আল্লামা তারিক মনোয়ার প্রধান মুফাসির হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে যোগদানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিষের অনুষ্ঠানের নামে এই জাতীয় নাচ-গানের আসর কাম্য নয় বলে দাবী করেন। কয়েকজন আলেম বলেন ইসলামী শরীয়ামতে বিষের অনুষ্ঠানের বেহায়াপনা বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
