টেকনাফ টুডে ডেস্ক : হ্নীলায় এক গরু ব্যবসায়ীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের ঘটনায় ৮জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ৬দিনের মাথায় ৭লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুমূর্ষাবস্থায় পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, ১লা সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টারদিকে উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া সংলগ্ন পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া থেকে লোকজন পুরো শরীরে কয়েল ও সিগারেটের ছ্যাঁকা লাগানো মুমূর্ষাবস্থায় স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী কামাল হোছনের পুত্র রবি আলম (২৩) কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভিকটিমের অবস্থায় গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রæত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার জামাল হোছন বলেন,অপহৃত ভিকটিম রবি আলমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে উদ্ধারকৃত ভিকটিমের ভাই হেলাল উদ্দিন কর্তৃক থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্র জানায়, গত ২৬আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টারদিকে হ্নীলা রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়ার গরু ব্যবসায়ী কামাল হোছনের পুত্র রবি আলম (২৩) বাড়ির পাশে জয়নালের দোকানে হতে মশার কয়েল নিয়ে ঘরে ফেরার পথে চিহ্নিত একটি গ্রæপ অস্ত্রেও মুখে জিম্মি করে পশ্চিমে পাহাড়ে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ৩০লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। অপহৃতের পিতা নিরুপায় হয়ে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য এই অপহরণ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রঙ্গিখালী গাজী পাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র আবুল আলম (৩৪), শাহ আলম (২৪), নুরুল বশর (৩৯), কবির আহমদের পুত্র নুরুল আমিন (৩৩), রঙ্গিখালী স্কুল পাড়ার দুদু মিয়ার পুত্র সেলিম (৩৩), আবুল কাশেমের পুত্র আক্তার হোসেন কালু (৩৪), আলীখালীর দিলদার আহমদের পুত্র রফিক (৩২) এবং নুর কবিরের পুত্র কালা ভুলু (৩০) কে আসামী করা হয়। পুলিশী তৎপরতার পরও অপহৃত রবি আলমকে উদ্ধার করতে না পারায় বিভিন্ন জনের নিকট হতে ধার-কর্জ্জ করে ৭লক্ষ টাকা সকালে অপহরণকারী চক্রের আস্তানায় দিয়ে আসলে অবশেষে ছেলেকে মুমূর্ষাবস্থায় জীবিত ফেরত পান।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ব্যাপারে আবুল আলম বলেন,আমি ঘটনার একদিন আগ থেকে নাক অপারেশনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। অপহৃতের পিতা কামালের সাথে আমাদের প্রায় ৭শতক জমি বিরোধ এবং আমার ভাই নুরুল বশর মেম্বার প্রার্থী। এসব কারণে আমাদের জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করার জন্য ৩ভাইকে আসামী করে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, রবি আলম একজন মাদক মামলার পলাতক আসামী। সে কি আত্নগোপনে ছিল নাকি অপহরণের শিকার হয়েছে তা খতিয়েদেখা হচ্ছে।
এদিকে হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকায় নতুন করে অপহরণ এবং মুক্তিপণ বাণিজ্যের ঘটনায় সুশীল সমাজে আবারো অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ###
