হেলাল উদ্দিন / সাদ্দাম হোসাইন / নোমান হাশেমী : হ্নীলায় ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধ্বস ও গাছ চাপা পড়ে একই পরিবারের ৫ ভাই-বোন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় মাতা-পিতা ও বোনসহ আরো ৪জন আহত হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। বিকালে মৃতদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
২৮ জুলাই (বুধবার) ভোররাতে উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লাল মিয়ার পুত্র ছৈয়দ আলমের বাড়িতে পাহাড় ধ্বস ও বড় তুলা গাছ ভেঙ্গে বসত-বাড়ি চাপা পড়ে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ছৈয়দ আলমের পুত্র মোহাম্মদ শুক্কুর (১৮), জুবাইর (১২), আব্দুল লতিফ (১০) এবং মেয়ে কহিনুর (১৪) এবং জয়নব আক্তার (৮) মারা যায়। তাদের শোর-চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মূর্মুষাবস্থায় বাড়ির মালিক ছৈয়দ আলম, তার স্ত্রী রেহেনা, ৮ মাসের শিশু মরিয়ম ও প্রতিবেশী অজিউল্লার মেয়ে হাসিনা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পাহাড় ধ্বসের খবর পেয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার হোছাইন আহমদ লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দূঘর্টনার বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করা হলে বেলা সাড়ে ১১টায় টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরের দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ, কক্সবাজার-৪ এর সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ পারভেজ চৌধুরী, টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান ও হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এরপর জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১লক্ষ ২৫হাজার টাকা, সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০হাজার টাকা এবং কোস্টট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১লাখ ৮৫হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বাদে আছর স্থানীয় গোরস্থানে জানাজা শেষে নিহতদের দাফন করা হয়েছে। এই দূঘর্টনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ###
