হুমায়ূন রশিদ : কক্সবাজার হতে হ্নীলার যাত্রী বেশে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সিএনজি চালককে অপহরণ করে ৬লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীর ঘটনায় মামলার জেরধরে পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটকের পর ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে।
জানা যায়,৮অক্টোবর ভোররাত সোয়া ৪টারদিকে গোপন অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে অপহরণকারীদের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ উপজেলার হ্নীলা ইউপির নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অভিযানে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পশ্চিম পাড়া ছনখোলার আবুল খায়ের ও তৈয়বা খাতুন দম্পতির ছেলে মোঃ তারেক হোসেন (২৮) এবং কালা মিয়া ও মঞ্জুরা বেগম দম্পতির ছেলে সাহাব উদ্দিন (২৬) কে আটক করে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম আবু সিদ্দিক (২১) কে উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর সকাল সোয়া ৯টারদিকে পিএমখালীর পরানিয়া পাড়ার মোঃ হোছন ও নুর জাহান দম্পতির ছেলে ভিকটিম সিএনজি চালক আবু সিদ্দিক (২১) বাংলা বাজারে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। তখন পিএমখালীর পশ্চিম পাড়া ছনখোলার কালা মিয়া ও মঞ্জুরা বেগম দম্পতির ছেলে সাহাব উদ্দিন (২৬) এবং মৃত আমীর হোছন সওদাগর ও আলিয়া খাতুন দম্পতির ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (৩২) মিলে যাত্রীবেশে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির মোচনী পাড়া সিএনজি স্টেশন আসার জন্য ভাড়া করে। পরে সিএনজি চালক নয়াপাড়া মোচনী রেজিষ্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামনে শুক্কুর মিয়ার ব্রিকফিল্ডের সামনে নামিয়ে দিতে বলে। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে যাত্রীদ্বয়কে মোচনী রেজিষ্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামনে শুক্কুর মিয়ার ব্রিকফিল্ডের সামনে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোঃ তারেক হোসেন (২৮), সাহাব উদ্দিন (২৬), ইয়াছিন আরাফাত (৩২) এবং নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের ডি-ব্লকের হাউস নং-১, এমআরসি নং-৬৩৬৬ এর বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র হাবিবুর রহমান হাবিব (১৯)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২জন মিলে ভিকটিমকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং ভিকটিমকে অস্ত্রের মূখে ভয় দেখিয়ে তাহার মূখ চেপে ধরে নয়াপাড়া মোচনী রেজিষ্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে নিয়ে আটক করে রাখে। পরে তাকে মারধর করে তার পরিবারের নিকট ফোন দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ০১৮২৯-৩৫১৩৩৪ হতে ভিকটিমের বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নং-০১৮৩৩-০৫৬০৯৯ তে ফোন করে মুক্তিপণ বাবদ ৬লক্ষ টাকা দাবী করে। ভিকটিমের বাবা মুক্তিপণের টাকা দিতে পারবে না বলে অস্বীকৃতি জানালে ভিটিকমকে প্রাণে মেরে ফেলার বলিয়া হুমকি ধমকি দিতে থাকে। পরে ভিকটিমের বাবা কোনো উপায় না পেয়ে টেকনাফ মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে থানা পুলিশকে তার ছেলের অপহরণের বিষয়টি অবগত কওে নামীয় ৪জন ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে তা টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-২১/৫৪২, তাং-০৮/১০/২০২৪ইং, ধারা-৩৬৫/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। পরে উর্ধ্বতন মহলের সার্বিক নির্দেশনা এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে। অবশেষে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে আটকের পর ভিকটিমকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান,ধৃত আসামীদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট আইনের মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ###
