বিশেষ প্রতিনিধি :
টেকনাফের হ্নীলার দু’জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা; একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানিতে জনচলাচলে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। হ্নীলা বাস ষ্টেশনের দুই জন বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জনচলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই পরে সড়ক দুইটিতে হাটু সম কাঁদা ও ময়লা পানি সয়লাব পেয়ে যায়। এতে জনচলাচলে দারুনভাবে ভোগান্তির সৃষ্টি করে পথচারী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ষ্টেশন কেন্দ্রিক দোকানপাট ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণকে। মনে হয় যেন অভিভাবকহীন এক অবহেলিত জনপদ। একটি হচ্ছে হ্নীলা বাস ষ্টেশন চৌরাস্তার মোড় হতে পূর্ব দিকে দেড় কিলোমিটার ষ্টেশন পুরাতন বাজার সড়ক। যে সড়কের পাদদেশে রয়েছে দেশের বিশিষ্টজন সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর বাড়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন আহমদের বাড়ী, চট্টগ্রামের সিএসসিআর-এর অন্যতম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জামাল আহমদের বাড়ী ও তার প্রতিষ্ঠিত অন্যতম সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হ্নীলা গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেন, আধ্যাত্মিক জগতের মহান সাধক আল্লামা ইসহাক (রহ.) এর বাড়ী, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, হ্নীলা বিজিবি ক্যাম্প, হ্নীলা কাস্টম অফিস, পোস্ট অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ঐতিহ্যবাহী হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্্রাসা। এছাড়াও এলাকাটি ঘিরে শত শত ডাক্তার, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ারসহ সামরিক বেসামরিক লোকজনের যাতায়ত ও বসবাস ঐ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঘিরে। কিন্তু দেখলে মনে যেন, এরকম অবহেলিত জনপদ আর নেই। কিন্তু কেন এত অবহেলিত। এটা নিয়েও সাধারণ মানুষ রয়েছে বোকার স্বর্গে। অনেকেই এটাকে রাজনৈতিক দলাদলি মনে করছে। কারণ সাবেক এম.পি. আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও বর্তমান এম.পি. আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি দু’জনই একই দলের হলেও একজন আরেকজনের বিপরীতমুখী মনোভাবই সড়কটির উন্নয়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশিষ্টজন ও এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন। এটা যদি না হয়ে থাকে বর্তমানে সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদির চলমান দুইটি পিরিয়ডে সড়কটির উন্নয়নে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এটাকি তার নির্বাচনী এলাকা নয়? আঞ্চলিক ভাষায় প্রবাদ আছে ‘উথাই-পাটাই ঘষাঘষি দিলে মরিচ পিষে যায়” আর নেতায়- নেতায়- ঠেলাঠেলি দিলে জনগণ কষ্ট পায়- কাজের কাম কিছুই হয় না”।
অপরটি হচ্ছে যে, হ্নীলা বাস ষ্টেশন চৌরাস্তার মোড় হতে পশ্চিমে দেড়/দুই কিলোমিটার হ্নীলা ষ্টেশন পানখালী সড়ক। যে সড়কটি হ্নীলা বাহারছড়া ঢালা সড়ক নামীয় পরিচিত। যে সড়কের পাদদেশে রয়েছে আরেক সাবেক সাংসদ মরহুম আবদুল গফুর চৌধুরীর বাড়ী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সচিব মরহুম দেলোয়ার হোসেন, বর্তমা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচ.কে আনোয়ার সি.আই.পি. সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদের বাড়ীসহ আরো একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামরিক বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের যাতায়ত ও বসবাস ঐ সড়কটি ঘিরে। এছাড়া হ্নীলার একমাত্র সরকারী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা হ্নীলা আল জামেয়া দারুস্সুন্নাহ মাদ্্রাসার অবস্থান ও তার প্রতিষ্ঠাতা আধ্যাত্মিক জগতের মহান সাধক আলহাজ্ব আবুল মঞ্জুল ফকির (রহ.) এর বাড়ী। সড়ক দুইটি দীর্ঘদিন সড়ক দুইটি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী, সহ সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গের যাতায়ত ও বসবাস থাকলেও বাস্তবে তাতে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে সড়ক দুইটির টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু এ টেন্ডার বাস্তবায়নে বাঁধা কোথায়? এটা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানতে চাই।
সম্প্রতি হ্নীলা ষ্টেশন পানখালী সড়কে চৌরাস্তার মোড় হতে তরকারী বাজার পর্যন্ত দুই চেইন পিচ ঢালাই দ্বারা লোক দেখানো উন্নয়ন করা হলেও বাকী কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিমত- যে যে দল করুক না কেন এলাকার উন্নয়নই আসল পাথেয়। তাই দলাদলি ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখার আহবান জানান এলাকাবাসী।
