হ্নীলার এক রোহিঙ্গা যুবক বেড়াতে গিয়ে নৃশংস খুনের শিকার : এখনো প্রকাশ্যে খুনীরা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : হ্নীলা অনিবন্ধিত মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক থাইংখালী ক্যাম্পে বেড়াতে গিয়েই নৃশংসভাবে খুনের শিকার হয়েছে। এই ঘটনার ২মাস পার হলেও ঘাতকেরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় নিহত রোহিঙ্গা যুবকের পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,টেকনাফের হ্নীলা মোচনী অনিবন্ধিত ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত মনির আহমদের পুত্র হেবজুর রহমান (১৬) চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের শুরুর দিকে উখিয়া উপজেলার থাইংখালী জামতলী বাগঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৩নং ওয়ার্ডের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ভাই আজিজুল হকের নিকট বেড়াতে যায়। সেখানে কিছুদিন থাকার হঠাৎ একদিন চাচাত ভাইয়ের মেয়ে আছিয়া খাতুনের সাথে সাজিদ নামে একজন যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে বাঁধা দিতে গিয়েই তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরধরে হেফজুরকে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায় সাজিত। ৪/৫দিনপর সাজিদের নেতৃত্বে কিছু উৎশৃংখল যুবক হেবজুর রহমানকে কথা আছে বলে ভাই আজিজুল হকের বাড়ী থেকে ১মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৫৫মিনিটের দিকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে খুন করে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ নিহত যুবকের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। হত্যাকান্ডের ২দিন পর নিহতের ভাই আজিজুল হক বাদী হয়ে থাইংখালী জামতলী বাগঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৪নং ওয়ার্ডের এইচ ব্লকের জাফর আলমের পুত্র মোঃ সাজিদ (২১), ১৩নং ওয়ার্ডের মৃত মোঃ আমিনের পুত্র ওমর সাদেক (১৯), একই ব্লকের ১৪নং ওয়ার্ডের শামশুল আলমের পুত্র মোঃ ফারুক (২০) ও জাহিদ হোসেন (২৩) কে আসামী করে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৪/ তাং-০৩-০৩-২০১৮ইং। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপপুলিশ পরিদর্শক মিল্টনকে। হত্যকান্ডের পরের দিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২নং আসামী ওমর সাদেককে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও অপর আসামীদের এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিল্টন বদলী হলে চাঞ্চল্যকর ঐ হত্যা মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপপুলিশ পরিদর্শক বিল্লাল হোসেনকে। হত্যাকান্ডের আড়াই মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামী সাজিদসহ অপর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় নিহত হেফজুরের পরিবারের মধ্যে এই মামলা নিয়ে নতুন করে শংকা দেখা দিয়েছে। অসহায় হেফজুরের অসহায়-দরিদ্র মা নুর বেগম তার ছেলের ঘাতকদের বিচার দেখে যাওয়ার জন্য উক্ত ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা কামনা করেছেন।