হ্নীলায় অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যে রোহিঙ্গা ছাইল্ল্যাহ বাহিনী ; ভাই বুলেটসহ র‌্যাবের হাতে আটকের পর তোলপাড়

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলায় পাহাড়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ছাইল্যা বাহিনীর সাথে স্থানীয় কতিপয় অপরাধীদের সাথে যোগ-সাজশের ফলে কৃষকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। এই কাজে ব্যবহারের জন্য বুলেট আনতে গিয়েই এ চক্রের সদস্য মোঃ জুবায়ের ওরফে শাহীন র‌্যাবের জালে আটকের পর তাদের অপকর্ম নিয়ে জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সুত্র জানায়,গত ২০জানুয়ারী রাত সাড়ে ১১টারদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার এর সিপিএসসি ক্যাম্পের আভিযানিক দল রামু হাসপাতাল পাড়াস্থ মেসার্স প্রান্তিক ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশী অভিযান শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে একটি পূরবী বাস চেকপোস্টের সামনে আসলে র‌্যাব সদস্যগণ বাসটি থামিয়ে তল্লাশীকালে টেকনাফের ২৬নং নয়াপাড়া মোছনী ক্যাম্পের ডি-ব্লকের এমআরসি নং-৬৩১১৪ এর বাসিন্দা মোঃ শফি ওরফে নাছিরের পুত্র মোঃ জুবায়ের ওরফে শাহীন (২২) এর দেহ ও শপিং ব্যাগ তল্লাশী করে ৩০ রাউন্ড অবৈধ গোলা-বারুদের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। ধৃত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অবৈধ গোলা-বারুদের কার্তুজ বিভিন্ন অপরাধীদের নিকট টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করে আসছিল। সে র‌্যাবের হাতে বিপূল পরিমাণ কার্তুজসহ আটক হওয়ার পর পাহাড় কেন্দ্রিক ডাকাত দলের অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

মুলত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পাশ্ববর্তী এলাকায় সক্রিয় থাকা স্বশস্ত্র গ্রুপগুলো আইন-শৃংখলা বাহিনী সমুহের চাপের মুখে নিরুপায় হয়ে তছনছ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারির ঘটনায় ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ে। এসব গ্রুপের কতিপয় সদস্যদের নিয়ে ২৬নং নয়াপাড়া মোছনী ক্যাম্পের ডি-ব্লকের এমআরসি নং-৬৩১১৪ এর বাসিন্দা মোঃ শফি ওরফে নাছিরের পুত্র ছালেহ আহমদ (৩২) প্রকাশ ছাইল্ল্যা রোহিঙ্গা ও কতিপয় স্থানীয় অপরাধীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলে বিশেষ বাহিনী।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বন, পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া, হ্নীলার মরিচ্যাঘোনা, খন্ডা কাটা, ভিলেজার পাড়া, বড় লেচুয়াপ্রাং, গাজীপাড়া, জুম্মাপাড়া, আলীখালী ও পশ্চিম লেদার কতিপয় অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিয়ে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার আর্থিক স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। সুযোগ বুঝে তাদের অপহরণ করার সময় অনেক অসহায়-দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে। গত ২ মাসের মধ্যে ১ডজনের অধিক কৃষককে চাষাবাদ পাহারা দেওয়ার সময় অপহরণ করে নিয়ে যায়। অনেকে ধার-কর্জ্জ করে আবার অনেকে গণহারে চাঁদা তুলে মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছে। এখনো পাহাড়ি ডাকাত দলের আতংকে বড় লেচুয়াপ্রাং এলাকার মানুষ ক্ষেত পাহারা দিতে যেতে পারছেনা। পাহাড় কেন্দ্রিক এসব অপরাধী চক্রের সাথে স্থানীয় কারা জড়িত তা বের করার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশ্বস্থ সংস্থার বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল সুত্র কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য চাষাবাদের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পীড়ায় জর্জরিত স্থানীয় জেলে-কৃষক নিরুপায় হয়ে কোন প্রকারে পেট বাঁচানোর জন্য পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফলমূল চাষ করে আসছে। তা করতে গিয়েই স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত দলের হাতে অপহরণ, নির্মম নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ ক্রমশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে। তাই এই চক্রের গ্যাং লিডার ছালেহ আহমদ ওরফে ছাইল্যাসহ সকল অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী উঠেছে। ###