বিশেষ প্রতিবেদক : হোয়াইক্যংয়ে একটি স্বশস্ত্র ডাকাত ও মাদক কারবারী সিন্ডিকেট এক রাখালকে অপহরণ করে মুক্তিপণ না পেয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। দরিদ্র এই রাখাল ভয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেনা।
রক্তাক্ত যুবক জানায়, গত ৫এপ্রিল রাত ৯টারদিকে উপজেলার হোয়াইক্যং পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার হাজী মীর আহমদ সিকদারের বাড়িতে কর্মরত রাখাল কাচাঁর পাড়ার গিয়াস উদ্দিনের পুত্র আয়াজ উদ্দিন (১৮) বাড়ির মালিক পুত্র জাফর আলমের সাথে পাহাড়ী ঘোনায় কাজ করার অপরাধে রাতে খাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আবু শামার পুত্র জাকারিয়া (৩৫), মৃত জলিল আহমদের পুত্র বখতিয়ার (৪০), আনু মিয়ার পুত্র মোঃ হোছন (৩০) বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এসময় ঘটনাস্থলে ইদ্রিস, পেঠান, নুর কবির পুতিয়া, হামিদ হোছন ও সোহেলসহ ১০/১৫ জনের একটি স্বশস্ত্র গ্রæপ পাহাড়ী আস্তানায় অবস্থানে ছিল। সেখানে ব্যাপক মারধর করে বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ দাবী করে।
এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে পুলিশ আসার গুজব ছড়ালে ফেরারী মাদক কারবারীরা অপহৃত আয়াজকে ফেলে পালিয়ে যায়। লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। ৬ এপ্রিল সকালে রক্তাক্ত যুবককে হামলাকারী বক্তার আহমদ চিকিৎসার জন্য ৫শ টাকা দিয়ে হ্নীলা ষ্টেশনে পাঠায়। এদিকে উক্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধি এলাকায় না থাকায় কোন ধরনের বিচার-সালিশ পায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় মীর আহমদ সিকদারের কৃষক পুত্র জাফর আলমের স্কুল পড়ুয়া ছেলে তারেক (৮) ও ফারুক (১২)কে অপহরণ করে কম্বনের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে ঐ শিশুদের মারধর করার পর রাত ৯টারদিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেয়। ঐ গ্রামে থাকা প্রতিবেশীরা শিশুদের উদ্ধার করে। এই চক্রের অব্যাহত হুমকির কারণে জাফর আলম বাড়ি ছাড়া এবং তার দুই ছেলের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে।
এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশ্বস্থ সুত্রের দাবী,উক্ত অপরাধপ্রবণ এলাকার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপরত রয়েছে।
সম্প্রতি মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান জোরদার থাকায় বিভিন্ন মাদক মামলার আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসব পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে মাদকের চালান লুটপাট, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্রবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। এসব দূর্বৃত্ত চক্রের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপদ চলাফেরা করতে পারেনা।
