বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে পাহাড়ি জনপদ দিয়ে ইয়াবার চালান পাচারের সময় ছিনতাইয়ের জের ধরে বৈঠক ও কথা কাটাকাটির জেরধরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ১২জন চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন আহত ও রহস্যজনক ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছে।
জানা যায়, ২৪অক্টোবর (রবিবার) সকালে মাদক কারবারী গ্রæপের সদস্য নয়াবাজারের নুর হোছনের পুত্র শাহজালাল আব্বুইয়া ও হাফেজ আহমদের পুত্র আবুল ফয়েজের নেতৃত্বে ৫জন যুবক কাঁকড়ার ঝুঁিড়র ভেতরে ইয়াবার চালান নিয়ে কাটাখালী-দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ি পথ দিয়ে আনার সময় স্থানীয় যতীন চাকমার পুত্রের নেতৃত্বে একটি গ্রæপ ৪০হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ও ৪কার্ড ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নেয়। এই মাদকের চালান উদ্ধার করার জন্য হোয়াইক্যং বাজারের আব্দুল আমিন প্রকাশ পুতু সওদাগরের পুত্র রুহুল আমিনের নিকট গিয়ে সহায়তা কামন্ াকরে। তখন রুহুল আমিন বিষয়টি ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছৈয়দ আহমদের পুত্র তোফাইলকে অবহিত করে। ঘটনার পর পরই তোফাইল গিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের হাঁকাবকা করে চলে আসে। পরে তোফাইলের ভাই কায়সার গিয়ে বিষয়টি বিকালে সমাধান করে দেবে বলে চলে আসে। বিকালে কাটাখালী ব্রীজের উপরে বৈঠক হলে চাকমা পল্লীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা জড়ো হয়। সালিশ চলাকালে এক পর্যায়ে দু,পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষেও সুত্রপাত হয়। এতে উভয়পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ১২জন চাকমা এবং ৩জন মুসলিমসহ ১৫জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ৫জন চাকমাকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে সন্ধ্যারদিকে চাকমার পল্লীর পরিত্যক্ত বাড়ির রান্না ঘরে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত রুহুল আমিন জানান,নয়াবাজারের শাহজালাল, আবুল ফয়েজ গং কাঁকড়ার ঝুড়ির কাঁকড়া, নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের বিষয় বললে আমি বিষয়টি দেখার জন্য তোফাইলকে বলি। পরবর্তীতে ঐ ঝুঁড়িতে মাদকের চালান থাকার বিষয়টি জানতে পারি।
নয়াবাজারের শাহজালাল আব্বুইয়া জানান, চাকমাদের সাথে তাদের ঘটনা হয়েছে কিন্তু ইয়াবার বিষয়টি জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে মুঠোফোন কেটে দেন। এরপর কয়েক বার চেষ্টা করলেও কথা বলতে রাজি হয়নি।
অভিযুক্ত তোফাইলের মুঠোফোন নং-০১৮৮২-৪৬৯২৬৫ এ বার বার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার জালাল আহমদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান,স্থানীয় গ্রামবাসী ও চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চাকমা সম্প্রদায়ের ১২জনসহ উভয়পক্ষের ১৫জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, এবং স্থানীয় সচেতন মহল মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে এই ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ সিকদার জানান,সকালে একটি ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা তোফঅইল একজন চাকমাকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করলে বিকালে তার ভাই কায়সার সমঝোতা সালিশে বসলে দু,পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় চাকমা পল্লীর একটি রান্না ঘরে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়েছে।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,আমি কাজে কক্সবাজার রয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মারফর স্থানীয় বাঙ্গালী ও চাকমাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ১টি ঘরে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সুত্রপাত বলে জানা গেছে। বিষয়টি আরো তদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ভিকটিমদের আইনী সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এদিকে মাদকের চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে চাকমা এবং স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ঘরে রহস্যজনক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের গুজব হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে উপজাতীয় নারীকে ইভটিজিং ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খবর পেয়ে এএসপি উখিয়া সার্কেল সাকিল আহমেদ, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ চৌধুরী, র্যাব প্রতিনিধি দল এবং টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছে। ###
