বিশেষ প্রতিবেদক : হোয়াইক্যংয়ে পাহাড়ি জনপদ দিয়ে মাদকের চালান পাচার করতে গিয়েই ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ার পর তা উদ্ধার করতে গিয়েই মারামারী এবং কথিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করে। কিন্তু প্রকৃত মাদক কারবারী এবং ছিনতাইয়ে জড়িত দূবৃর্ত্তরা প্রায় একমাস ধরে আইনের আওতায় না আসায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২৪অক্টোবর (রবিবার) সকালের দিকে হোয়াইক্যং নয়াবাজারের নুর হোছনের পুত্র শাহজালাল আব্বুইয়া ও হাফেজ আহমদের পুত্র আবুল ফয়েজের নেতৃত্বে ৫জন যুবক কাঁকড়ার ঝুঁিড়র ভেতরে ইয়াবার চালান নিয়ে কাটাখালী-দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ি পথ দিয়ে আনার সময় স্থানীয় যতীন চাকমার পুত্রের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ ৩৬হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ও ৪কার্ড ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নেয়। এই মাদকের চালান উদ্ধার করার জন্য হোয়াইক্যং বাজারে গিয়েই শাহজালাল আব্বুইয়ার জনৈক মামাত বোন জামাইয়ের নিকট সহায়তা কামনা করে। তখন বিষয়টি ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছৈয়দ আহমদের পুত্র তোফাইলকে অবহিত করে। ঘটনার পর পরই তোফাইল গিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের হাঁকাবকা করে এবং হাতাহাতির পর চলে আসে। পরে তোফাইলের ভাই কায়সার গিয়ে বিষয়টি বিকালে সমাধান করে দেবে বলে আশ্বাস দেন। ঐদিন বিকালে কাটাখালী ব্রীজের উপরে বৈঠক হলে চাকমা পল্লীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা জড়ো হয়। সালিশ চলাকালে এক পর্যায়ে দু,পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। এতে উভয়পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয়পক্ষে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যারদিকে চাকমার পল্লীর পরিত্যক্ত বাড়ির রান্না ঘরে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত নিয়ে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির পায়তারা। তখন শক্তিশালী একটি গ্রুপ মাদক কান্ডকে ধামাচাপা দিয়ে এলাকার প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য মিশন শুরু করে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে এএসপি উখিয়া সার্কেল সাকিল আহমেদ,টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ চৌধুরী, র্যাব প্রতিনিধি দল এবং টেকনাফ মডেল থানার এক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আসলেই মাদকের চালান বহন ও ছিনতাইয়ের সুত্রধরে সৃষ্টি পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এই জাতীয় ঘটনার সৃষ্টি তা লোকমুখে স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনার এক মাস সময় পার হতে চললেও মাদকের চালান পাচারে জড়িত নয়াবাজারের নুর হোছনের পুত্র শাহজালাল আব্বুইয়া ও হাফেজ আহমদের পুত্র আবুল ফয়েজ গং এবং ছিনতাইয়ে জড়িত যতীন চাকমার ছেলের নেতৃত্বে গঠিত গ্রুপ এখনো আইনের আওতায় আসেনি। বরং তারা কৌশল পরিবর্তন করে দিনের পর দিন আরো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে জানা গেছে। তাই আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশ্বস্থ সংস্থার নিকট তালিকায় থাকা এসব অপরাধীদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ###
