জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফে সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ভোট চলাকালীন সময়ে দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর মেম্বার প্রার্থী এবং সমর্থকদের হামলা চলাকালীন ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত কর্তব্যরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অশনি সংকেত। এ ঘটনায় প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম আশংকা দেখা দিয়েছে।
হতাশা এবং আশংকার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন ওই এলাকার ভোটাররা। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে টেকনাফজুড়ে তোলপাড় চলছে। সাধারণ ভোটাররা লম্বাবিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটিকে উনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত করে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়োগ করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলায় জড়িতদের দ্রæত সময়ে গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবী সংশ্লিষ্ট সকলের।
উনছিপ্রাং এবং লম্বাবিল এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,২০ সেপ্টেম্বর সকালে ভোট শুরু হওয়া মাত্রই উনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেম্বার পদের ৫শ ব্যালট পেপার খোয়া হয়েছে জানতে পেরে রিটার্নিং কর্মকর্তা কেন্দ্রটিতে ওই ইউনিয়নে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ এরফানুল হক চৌধুরীকে পাঠিয়ে ভোট স্থগিত রাখতে বলেন।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ওই ওয়ার্ডের অপর কেন্দ্র লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে মেম্বার পদের ভোট স্থগিত ঘোষণা করতে গেলেই মেম্বার প্রার্থী এবং তাদের সমর্থিত কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানান,মেম্বার প্রার্থী জিয়াবুলের উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা ম্যাজিষ্ট্রেটকে মারধর,অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, গাড়ী পাম্পচার এবং ভাংচুর চালায়। এসময় উপস্থিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
অনুসন্ধানে জানাযায়,ভোটের সময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিরাপত্তার জন্য বিজিবির এক টিম থাকার কথা থাকলেও সেদিন ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে ওই সময় বিজিবি ছিলেন না। এই কারণেই হেয়াইক্যংয়ের ইউপি নির্বাচনে দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলা চালিয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রিজাইডিং অফিসার দেবজ্যোতি রুদ্রের মুঠেফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেন্দ্রটিতে আইন শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মীর আরিফ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মোবাইল ফোন কেটে দেন।
ভোটে পুরো হোয়াইক্যং ইউনিয়নে আইন শৃংখলার দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শক নুর মোহাম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিতে কোন ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ বেদারুল ইসলাম জানান, উনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র হতে ৫শ ব্যালট হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক অবগত হওয়ার পর ওই ব্যালট ঢুকিয়ে হয়তবা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে মর্মে নির্বাচন কমিশন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠিয়ে ওই কেন্দ্র এবং একই ওয়ার্ডের লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের মেম্বার পদের ভোট স্থগিত করেন। বিষয়টি না বুঝেই কিছু লোক লম্বাবিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালান। তিনি ওই দিনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী বলেন,মেম্বার পদের ব্যালেট পেপার খোয়া যাওয়ায় রিটার্ণিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উনছিপ্রাং কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ঘোষণা করে একই ওয়ার্ডের লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত করতে গেলেই মেম্বার প্রার্থী জিয়াবুল হকের কর্মী সমর্থকরা কিছু না বুঝার আগেই হৈ চৈ শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে তারা আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্থা করেন। প্রায় ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবু সুফিয়ান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তিনি আরো জানান, ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ার কথা এই প্রতিবেদককে জানান।
এদিকে হোয়াইক্যংয়ের ইউপি নির্বাচনে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন অর রশীদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলা এবং মারধর পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের সিদ্বান্ত মোতাবেক হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঊনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে সব পদের ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। #
