মো. শফি ও মো. জাবেদ সামী, টেকনাফ :
টেকনাফের নেটং পাহাড়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বড়ইতলী এলাকায় র্যাব ক্যাম্পের বিপরীতে নেটং পাহাড়ে দাও দাও করে আগুন জ্বলে উঠে। এসময় খবর পেয়ে বনবিভাগ, বনপাহারা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সহায়তা করে। ততক্ষণে বড়ইতলী এলাকায় নেটং পাহাড়ের কয়েক একর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, আগুন লাগার সাথে সাথে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনকর্মী ও পাহাড়া দল মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঝাঁিপয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, র্যাব ক্যাম্প হতে ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারাও ছুটে আসেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে আগুনের উৎপত্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেটং পাহাড়ের যে স্থানে আগুন লেগেছিল তা ছিল হাতির খাদ্য বাগান। সকালে কয়েকটি বন্য হাতি সেখানে খাবার খেতে আসে। এসময় নেটং পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসবাসকারী কিশোর-তরুণরা হাতি তাড়াতে পাহাড়ে আগুন দেয়।
আগুন নেভাতে যাওয়া বন কর্মী ও বন পাহারা দলের সদস্যরাও হাতি গুলো দেখতে পেয়েছেন বলে জানান।
টেকনাফের পরিবেশ কর্মীরা জানান, এখানকার রিজার্ভ ফরেস্টসহ আশেপাশের বনভুমি দখল করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বসতি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যহাতি সহ পাহাড়ী জীবজন্তুর বসবাস ঝুঁকিপূর্ন ও অনেক বন্যপ্রানী আশংকাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। এব্যাপারে বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের এখনি কঠোর ভুমিকা পালন না করলে অদুর ভবিষ্যতে পাহাড় ও বনভুমি কোনটার অস্থিত্বই থাকবেনা বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তারা।
এমনকি পৌরসভার নাইট্যং পাড়া এলাকায় বনবিভাগের কয়েকশ গজের মধ্যে বনভুমি দখল করে ক্রমান্বয়ে ঘরবাড়ি ও দোকান পাট নির্মিত হলেও তা উচ্ছেদের তেমন একটা তৎপরতা চোখে পড়ে না বলে জানান তারা।
