স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা গডফাদার লেদার আবু তাহেরের নেতৃত্বে নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেট রমরমা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক :
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা গডফাদার টেকনাফ লেদার আবু তাহেরের নেতৃত্বে নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেট ধরাছোয়ার বাইরে থেকে ধুমধারাক্কা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। টেকনাফ লেদার জালাল আহমদের পুত্র লেদার আবু তাহের ও তার ভাই হাসান মুরাদ টেকনাফের ইয়াবা সা¤্রাজ্যের আলোচিত নাম। প্রায় এক যুগের বেশী সময় ধরে তারা ইয়াবা ব্যবসা করে সামান্য বেকার যুবক থেকে তারা বর্তমানে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে তাদের প্লট-ফ্ল্যাট ও আলীশান বাড়ি-গাড়ির খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
অত্যন্ত ধুরন্ধর ইয়াবা গডফাদার আবু তাহের নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করায় মাঝে মধ্যে তার সিন্ডিকেটের ইয়াবার চালান আটক হলেও ব্যবসা কখনো থেকে থাকেনি। সম্প্রতি সে কক্সবাজারে ৫ তলা আলীশান ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসে তার নিকটাত্মীয় লেদার ৬ যুবককে নিয়ে নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেট গঠন করে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
কয়েকদিন আগে এ সিন্ডিকেটের ১ লাখ ইয়াবার একটি চালান নাফ নদীর তীর থেকে আত্মসাতের ঘটনায় এখনো ইয়াবা মালিক ও আত্মসাতকারীদের মাঝে উত্তেজনা চলছে। এছাড়া উখিয়ার বালুখালীতে শনিবার আটক হওয়া ২ লাখ ৫৫ হাজার ইয়াবার চালানটিও এই সিন্ডিকেটের বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা গডফাদার আবু তাহেরের নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হচ্ছে পূর্ব লেদার মৌলভী আমীর হোসনের পুত্র আব্দুল গাফফার, কামাল হোসনের পুত্র তোফাইল, মাষ্টার হাফেজ আহমদ প্রকাশ কালা মিয়া মাষ্টারের পুত্র কোডেক এর গার্ড শাহীন উদ্দিন, মৃত কবির আহমদের পুত্র হেফাজ উদ্দিন, আবুল কাসেমের পুত্র শামসুল আলম ও আবুল কাসেমের পুত্র আব্দুর রহমান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো তাদেরকে খুঁজলেও অত্যন্ত সুচতুর এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাহের সিন্ডিকেটের নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কয়েকজন আগে নাফ নদী কেন্দ্রিক রোহিঙ্গা পারাপার ও মানব পাচারের সাথে জড়িত ছিল। আবার কয়েকজন ছিল বেকার যুবক।
ইয়াবা ব্যবসার বদৌলতে আজ তারা কেও লাখপতি আবার কেও কোটিপতি।
তবে সুচতুর নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কয়েকজন পূর্বের অন্যান্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মতো আলীশান বাড়ি গাড়ি করে প্রশাসনের নজরে পড়তে নারাজ। তাই তারা বাড়ি করলেও এসব বাড়িতে নেই কোন চাকচিক্য। প্রশাসন বা সাধারন মানুষের চোখে পড়ার মতো করে তারা কোন স্থাপনা তৈরী না করে ধীরে ধীরে সম্পদের পরিমান বৃদ্ধিতে মনোযোগী। তাইতো তাদের ধুমধারাক্কা ইয়াবা ব্যবসা চললেও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় নেই তাদের নাম। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে লেদা এলাকার একসময়ের ইয়াবা গডফাদাররা এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার টার্গেটে পরিণত হওয়ায় বর্তমানে তাদের শুধু নামই আছে কাজ নেই। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এই নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেটের হাতে।
কিভাবে পাচার করে : এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নাফ নদী থেকে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে বড় বড় ইয়াবার চালান পূর্ব লেদায় তোফাইলের বাড়িতে এনে মজুদ করে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন যানবাহনে ও মানব ফ্রিজের মাধ্যমে তা পৌঁছে যায় কক্সবাজারে আবু তাহেরের আস্তানায়। পরে সেখান থেকে এই ইয়াবা দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
তোফাইলের পিতা এলাকায় থাকা বিজিবি ক্যাম্পের সাথে সহযোগীতার নামে লেবেল দিয়ে চলার ফলে তার বাড়িটিকেই তারা নিরাপদ হিসাবে ইয়াবা মজুদের গোপন আস্তানা হিসাবে গড়ে তুলেছে। এই তোফাইল ও তার পিতার দৃশ্যতা কোন ব্যবসা না থাকলে সম্প্রতি বড় সড় একটি বাড়ি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে বাড়িটি নির্মাণে অন্তত ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে পিতা-পুত্র। এলাকাবাসীর প্রশ্ন তাদের আয়ের উৎস কি। দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলোকে তাদের গোপন সম্পদ খুঁজে বের করার দাবী জানিয়েছে তারা।
সিন্ডিকেটের অপর সদস্য গাফফার এক সময় ছিল সামান্য পানের দোকানদার। লেদা স্টেশনে মসজিদের পাশে ছিল তার পানের দোকান। বর্তমানে তার ৫০ কানির মতো লবণ মাঠ লাগিয়ত নেয় বলে জানা গেছে।

সিন্ডিকেটের অপর সদস্য শাহীন উদ্দিন। কোডেক এর গার্ড ছিল। এখনও ঢাল হিসাবে এই চাকুরী বজায় রেখেছে। সিএনজি, টমটমসহ বহু টাকার মালিক। রোহিঙ্গা পারাপার করে প্রচুর টাকা আয় করে। বর্তমানে তাহেরের নব্য ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্য। শাহীনের মেজ ভাই হাফেজ নাসির উদ্দিন ইয়াবা নিয়ে আটক হয় হোয়াইক্যং বিজিবির হাতে ২০১৫ সালে। দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে বর্তমানে জামিনে আছে। পরে চট্টগ্রামেও ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে কয়েক দিন আগে জামিনে মুক্ত হন। এই সিন্ডিকেটের ইয়াবা পাচারে নিয়োজিত সে।

সিন্ডিকেটের অপর সদস্য হেফাজ উদ্দিন পেশায় পূর্বে ছিল জেলে।
নাফ নদী দিয়ে সে ও শামুসল আলম ইয়াবার চালান এনে তোফাইলের বাড়িতে মজুদ করে। মিয়ানমার মাংগালা খাল থেকে লেদা ছুরি খাল হয়ে আসে ইয়াবার এ চালান।

শামসুল আলম আবার হ্নীলা নাটমুড়া পাড়া এলাকার ইয়াবা গডফাদার হানিফের আপন ভাগিনা। এলাকার অন্যান্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মতো বাড়ি গাড়ী প্রদর্শন করে বিপদে পড়ার ভয়ে সম্পদ গোপন রেখেছে বলে এলাকাবাসীর ধারনা।
সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুর রহমান একসময় মিয়ানমারের সাথে মাছ ব্যবসা করার সুবাধে ওইপারের সাথে তার ভাল যোগাযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে সে মিয়ানমার পাড়ি দিয়ে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করলেও সেদেশের প্রশাসন পর্যন্ত তাকে আটকায়না বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
লেদার নব্য এই ইয়াবা সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার দাবী সচেতন মহলের। নাহলে তারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে লাখ লাখ মরণ নেশা ইয়াবা মিয়ানমার থেকে এনে এদেশে ছড়িয়ে দিবে অনবরত।