স্থল ও নৌ-পথে মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার বহর : পাচার হয়ে যাচ্ছে শত কোটি টাকা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

স্থল ও জলপথ দিয়ে মিয়ানমার থেকে বানের স্রোতের ন্যায় লাখ লাখ মরণ নেশা ইয়াবা চালান বাংলাদেশে ঢুকছে। এর বিনিময়ে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলা টাকা। ফলে অনেক সময় সরকারী ও বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকে অর্থের সংকটে পড়ে।

অনুসন্ধানী রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে, বাংলাদেশের রাজধানীসহ শহরে ও বন্দরে দৈনিক ৮ থেকে ৯ লাখের চেয়ে বেশি ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। চাহিদা পূরনের উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়তই মিয়ানমার থেকে স্থল ও জলপথ দিয়ে বড় ধরনের ইয়ার চালান চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে। এ সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা জব্দ এবং পাচারকারী আটক হলেও এর সাথে জড়িত গডফাদারেরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ইয়াবা পাচার থামানো যাচ্ছেনা কোন মতে।

বাংলাদেশ মিয়ানমার দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে শক্তিশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী, ইয়াবা পাচারে স্থল ও নৌ-পথের চিহ্নিত পয়েন্টকে ব্যবহার করে আসছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে কোন কোন সময় অভিনব পন্থায় ইয়াবার চালান চিহ্নির চোরাইপয়েন্ট গুলো দিয়ে নিরাপদে চলে আসে। এসব ইয়াবার চালানের একটি অংশ জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে চলে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানায় প্রতিমাসে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার বিপরীত প্রায় শত কোটির চেয়ে বেশী বাংলা টাকা মিয়ানমারে হুন্ডি এবং বিকাশের আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা পাচারের স্বার্থে টেকনাফ ছাড়া ও চট্টগ্রামে বেঙের ছাতার ন্যায় হুন্ডি ও বিকাশ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে শত শত কোটি বাংলা টাকা মিয়ানমারে পাচার হলেও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং ইয়াবা ব্যবসাও পাচার বীরপর্দে চালিয়ে যাচ্ছে ওরা।

সূত্রে আরো জানায়, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কতিপয় ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে আতাঁত করে, ইয়াবার টাকা সুদ ব্যাতীত জমা করে, প্রতিদিন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হিসাব নাম্বারে টাকা জমা এবং টিটি করা হচ্ছে। যাহা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের নীতির পরিপন্থি হলেও এটি এখন নিয়মে পরিনত হচ্ছে। তদন্ত করলে এসব অজানা রহস্য বের হয়ে আসবে বলে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে।

টেকনাফ পৌরসভা, সাবর্ংা, হ্নীলা, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ সদর ও চট্টগ্রাম পর্দার অন্তরালে বসে দীর্ঘদিন যাবৎ হুন্ডি, বিকাশ ও ডলার ব্যবসা করে আসছে। এ ৩টি প্রতিষ্টান ইয়াবা ব্যবসায়ীর ছায়া হিসাবে কাজ করে আসছে। ইয়াবা ব্যবসা করে অনেকেই জিরো থেকে হিরো বনে এখন তারা রাজার হালতে জীবন যাপন করছে। সেই সাথে পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবন যাত্রার মান। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান কোন বৈধপ্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু তার পরও ওরা কোটিপতি।

সুচতুর কতিপয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে বাঁচার উদ্দেশ্যে কালোটাকা সাদা করে বেনামে স্বনামে জায়গা জমি, প্লাট ক্রয় করে রেখেছে। এছাড়া নিকটস্থ আতœীয় সজনের নামে ব্যাংকে একাউন্ট খুলে ইয়াবার কালো টআকা জমা করে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য প্রকাশ। তথ্য মতে টেকনাফ পৌর শহরে একটি অভিজাত বিপনী বিতান বা মার্কেট রয়েছে। যাকে ইয়াবা ও মানবপাচারকারী মার্কেট হিসাবে পরিচিত। এ মার্কেটে ওরা দোকান খুলে কালোটাকা সাদা করে রেখেছে। যেন ওরা কলংখমুক্ত। এর পরও কিন্তু ওরা ইয়াবা ব্যবসা দিব্র্যি চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী অক্পটে বলেন, ইয়াবা একটি নেশা। ইয়াবা ব্যবসা করে অতীতে যারা হঠাৎ জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন, তারা কি করে ইয়াবা ব্যবসা ছাড়তে পারে। ওদের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এবং সংশ্লিষ্টদের ম্যানেইজ করেই ইয়াবা ব্যবসা করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে বর্ডারগার্ড (বিজিবি) অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসার নৈপথ্যে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) এর মাধ্যমে বাংলা টাকা মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে।

টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজ্বী মোঃ ইসলাম ২৮ ফেব্রুয়ারী টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা ও চোরাচালান ট্র্রাসকফোর্স কমিটির সভায় জোরালো বক্তব্যে বলেন, ইয়াবা কি? ইয়াবা কিভাবে আসে এবং কিভাবে দেয়? নিশ্চয় ইয়াবা আসে অর্থের বিনিময়ে। কারা এই অর্থ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও আইন শৃংখলা কমিটির সদস্য জহির হোসেন এম,এ বলেন, ইয়াবার চালান আসছে ইউ,এস,এ ডলালের মাধ্যমে।