শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ততির পাড়াস্থ এলাকায় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ওরফে সোহেল সিকদারের উপর সন্ত্রাসীরা লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।এসময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় ওই যুবলীগ নেতা।তবে অর্তকিত গুলি বর্ষণে সিকদার বাড়ী ঘিরে ভয়ে রাত যাপন। আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর। গত শনিবার (১৭ জুন) রাতে আধাঁরে বাড়ীর সামনে অতর্কিত দু,রাউন্ড গুলিবর্ষণে পুরো ইউনিয়নবাসীদেরকে আলোড়ন তুলে। এ ন্যক্কারজনক হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কচ্ছপিয়ার ইউনিয়নের দুই সন্ত্রসীর নাম আলোচনায় উঠে আসে। এদের একজন সদ্য বিএনপি থেকে খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামীলীগের নামধারী এম, সেলিম ও অপরজন ইউপি সদস্য নজরুল।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘গর্জনিয়া বাজারস্থ নিজ অফিস থেকে কাজকর্ম শেষে মোটর সাইকেল চালিয়ে তিতারপাড়ার নিজ বাড়িতে প্রবেশের পথে হঠাৎ বিকট শব্দ হলে গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে মাটিতে সোহেল শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আরো এক রাউন্ড গুলি তার খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। তখন প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দৌঁড়ে পালায়। খবর পেয়ে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাজি আরিফ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর পর পুলিশ সন্দেহভাজন চার সন্ত্রাসীর বাড়িতে তল্লাশি চালালে তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে সেলিম ও নজরুল তাদের লোকজন নিয়ে গর্জনিয়া বাজারে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। খবর পেয়ে সোহেল গ্রুপও লোকজন নিয়ে এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। তবে দ্রুত সময়ে মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন বলে দাবি পুলিশের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গুলিবর্ষণকারী চিহ্নীত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী রোববার রাতে বলেন, কচ্ছপিয়ার যুবলীগনেতা সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে গুলিবর্ষণের ঘটনা সত্য। এ বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী এম সেলিমের লোকজনের সঙ্গে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনন সোহেল সিকদার গ্রুপের দাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় সেলিম ও তাদের লোকজন পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেলেও শেষ রক্ষা হয়নি নজরুলের। সে ধাওয়া খেয়ে গর্জনিয়া বাজারের ময়লা পানির গর্তে পড়ে নাজেহাল হয়। এরপর থেকে কচ্ছপিয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
