সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে কেফায়েত নামে দ্বীপের স্থানীয় একজন অধিবাসী আবেগঘন এক স্ট্যাটাস লিখেছে তার ফেইসবুক টাইমলাইনে। তার এই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো টেকনাফ টুডের পাঠকদের জন্য।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে কি কচ্ছপ থাকবে, নাকি মানুষ থাকবে!
মাঝে মাঝে মন চাই দ্বীপ ও দ্বীপটির মানুষদের নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে।
আজ পর্যন্ত দ্বীপটির কাঠামোগত, পরিকল্পিত কোন উন্নয়ন সাধণ না করে, দ্বীপবাসীর সাথে কোন সামঞ্জস্য না রেখে, কিছু এনজিও সংগঠনের মদদে ঢাকায় বসে বসে মনগড়া আইন প্রণয়ন করবেন…… দ্বীপবাসীর পেটে লাতি মারবেন, এমন যুক্তি কোথাই পাইলেন??
আজ পর্যন্ত দ্বীপটির বাসিন্দা কিংবা নেতাদেরকে কোন ধরণের বৈঠকে রাখা হয়নি।
বারে বারে সেন্টমার্টিন দ্বীপটি নিয়ে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন অজুহাত নিয়ে দ্বীপবাসীর সাথে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
-একবার বলে দ্বীপবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে।
-জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হবে।
-পর্যটকদের রাত্রীযাপন করতে দেওয়া হবে না।
-দ্বীপটিকে কচ্ছপ বা কাছিম ডিম পাড়ার জন্য বরাদ্ধ করা হবে।
-পুরো দ্বীপটি বহির্বিশ্বে লিজ দিয়ে দিতে হবে।
-দ্বীপটিকে নৌবাহিনীর ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
ইত্যাদি নাটক আর দ্বীপবাসী দেখতে চাইনা।
দ্বীর্ঘ ২৫০ বছর ধরে দেখবাল করে আসছে আমাদের বাপ দাদারা। দ্বীপের এত সুন্দর সবুজ বেষ্টিত পরিবেশ আমাদের বাপ দাদারাই করেছে। ধ্বংশ আপনারাই করেছেন। গাছ আপনারাই কেটেছেন। বারি স্থাপনা আপনারাই করেছেন। প্রবাল ঝিনুক শামুক পাথর আপনারাই নিয়ে যান। দ্বীপটির পরিবেশ ধ্বংশের মূল নায়ক আপনারাই।
সেন্টমার্টিন আসলে বহুতল ভবন ছাড়া আপনারা থাকতে পারেন না।
আপনারাই বাড়ি স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন?
সারারাত জেনারেটর চালিয়ে আপনাদের বাতাস করতে হয়।
আবার আপনারাই জেনারেটর বন্ধ করবেন?
দ্বীপের জন্য এত দরত হলে, দ্বীপটির টেঁকসইয়ের জন্য ২৫০ ধরে একটা টেঁকসই বেড়িবাঁধের বরাদ্ধ হয়না। আপনারা যদি এই দ্বীপ নিয়ে যদি কোন উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারেন, তা হলে আমাদের হাতেই ছেড়ে দিন। আমরাই দেখিয়ে দিতে চাই, পর্যটন আগমনের পাশাপাশি কিভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিকল্পিত উন্নয়ন করা যায়!
দ্বীপে পর্যটক বন্ধ করে কচ্ছপ বা কাছিমদের জন্য বাঁশের কয়েকটি ঘর করে কোটি কোটি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ আর নাই।
পর্যটন মৌসুম শুরু হলেই যত আইন কানুন, প্রণয়ন।
তৎকালীন পর্যটন মন্ত্রীও এমন কিছু করতে চেয়েছিল। তা দ্বীপবাসী একাই প্রতিহত করেছে।
এই দ্বীপেই জন্ম আমাদের, এই দ্বীপেই মৃত্যু হতে প্রস্তুত দ্বীপবাসী।
মনে রাখবেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপেরই অর্ধেক ভ্যাটিকানসিটিও কিন্তু একটা দেশ।

আমার পরিচয়, আমি কেফায়েত।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের সন্তান।
