সেন্টমার্টিনগামী ট্রলারে মিয়ানমার বাহিনীর অতর্কিত গুলি বর্ষণ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

জয়নাল আবেদীন, টেকনাফ প্রতিনিধি :

সেন্টমার্টিনগামী ট্রলারে আবারও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আজ(০৮জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফ নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের নাইক্ষংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় কেউ হতাহত না হলেও ট্রলারে ৭টি গুলি লাগে। জানা গেছে ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মালামাল নিয়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাচ্ছিল।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আদনান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের কিছু মালপত্র নিয়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলার যায়।টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে নাইক্ষংদিয়া নামক জায়গায় তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মিয়ানমার বাহিনী। এ বিষয়ে, বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বর্ডার গার্ড বিজিবি মিয়ানমার কাছে প্রতিবাদ লিপি পাঠাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “টেকনাফ থেকে ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় নাইক্ষ্যংদ্বীপ স্থান দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তের ভিতর দিয়ে যেতে হয়।”

প্রথম ট্রলারের মাঝি, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মোঃ বেলাল উদ্দীন বলেন, “আমরা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সকাল ১০টার সময় ইট, বালি ও রড নিয়ে দু’টি ট্রলার কায়ুকখালী খাল সংলগ্ন ঘাট দিয়ে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নাফ নদীর মোহনা (নাইক্ষ্যংদিয়া)  ক্রস করার সময় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী অতর্কিতভাবে ১৫-২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। এতে আমাদের ট্রলারে গুলি এসে লাগে, পরে ট্রলারে ৭টা গুলির চিহ্ন দেখা যায়। আমরা একি ট্রলারে স্টাফসহ ৬জন ছিলাম। আমরা নিরাপদ স্থানে থাকায় আমাদের গায়ে গুলি লাগেনি। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি বর্ষণ লক্ষ্য করে জীবন রক্ষার্থে, আমরা নিরাপদে ট্রলার ফিরিয়ে নিয়ে শাহ পরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে নোঙর ফেলি।
তিনি আরো জানান, আমাদের ট্রলারের মালিক মোঃ রশিদ, কোস্টগার্ড এবং প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের অবহিত করি।”

দ্বিতীয় ট্রলারের মাঝি, মোঃ হাসান জানান, “আমরা দু’টি ট্রলার একসাথে যাত্রা শুরু করি। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের ট্রলার লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করে, অপর ট্রলারে গুলি লাগলেও আমাদের ট্রলারে গুলি লাগেনি। ট্রলারে আমরা ৩জন ছিলাম। পরে নিরাপদে জীবন রক্ষার্থে আমরা ট্রলার ফিরিয়ে নিয়ে শাহ পরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে এসে নোঙর ফেলি।”

ট্রলারের মালিক মোঃ রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমার ট্রলারসহ দু’টি ট্রলার লক্ষ্য করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলিবর্ষণ করলে, আমার ট্রলারে ৭টা গুলি এসে লাগে।”