আর যদি কেউ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, তবে তার দুনিয়া-আখিরাত উভয়টিই বরবাদ হয়ে যায়। যেমন—আল্লাহর নবী আইয়ুব (আ.)-এর রোগ ও তাতে তাঁর ধৈর্য ধারণ করার কাহিনি একটি প্রসিদ্ধ বিষয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদ ধ্বংস করে এবং রোগ দ্বারা তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন।
অন্যদিকে হজরত সুলাইমান (আ.)-কে মহান আল্লাহ অঢেল সম্পদ ও প্রবল ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তিনি তাতে উল্লসিত না হয়ে বরং আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, সুলাইমান বলল, ‘এটি আমার রবের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে আমি কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, নাকি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তার নিজের কল্যাণেই তা করে, আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হবে, তবে নিশ্চয় আমার রব অভাবমুক্ত, অধিক দাতা’। (সুরা : নামাল, আয়াত : ৩৮-৪০)
শুধু নবীরাই নন, মহান আল্লাহ মাঝেমধ্যে তাঁর সাধারণ বান্দাকেও সম্পদ দিয়ে বা ছিনিয়ে নিয়ে পরীক্ষা করেন। কখন তার মনের অবস্থা কেমন হয়, সে সব অবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে কি না, তা যাচাই করেন।
বুখারি শরিফের ৩৪৬৪ নম্বর হাদিসে উল্লিখিত বনি ইসরাঈলের সেই তিন ব্যক্তির কথা অনেকেরই জানা। যেখানে মহান আল্লাহ একজন শ্বেতরোগী, একজন টাকওয়ালা ও একজন অন্ধকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতার মাধ্যমে রোগমুক্তি দিয়েছিলেন এবং অঢেল সম্পদের মালিক বানিয়েছিলেন। কিছুদিন পর তাদের কাছে আবারও ছদ্মবেশে ফেরেশতা পাঠিয়ে তাদের পরীক্ষা করেন, সে পরীক্ষায় অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিটি ছাড়া বাকি দুজনই অকৃতকার্য হয়। ফলে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের মাধ্যমে ওই অন্ধ ব্যক্তিটিকে তাঁর সন্তুষ্টির সুসংবাদ দিয়ে দেন এবং বাকি দুজনের জন্য ফেরেশতারা আবার অতীতের জীর্নশীর্ণ অবস্থায় ফেরত যাওয়ার বদদোয়া করে দেন।
তাই আমাদের উচিত, সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা, তাঁর শোকর আদায় করা, তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
